শিরোনাম

ইয়াবা নায়ে পুলিশ মাঝি

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৬

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

kaziকাজী ওয়াসীমুল হক : আমার গত লেখায় অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে পুলিশ যদি ইয়াবা/হেরোইন/গাজা রোপন করে স্বীকারোক্তি আদায় করে নেয় তখন কি হবে!

পুলিশ আসলেই এমন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা অবশ্যই আছে, তবে আমার এই লেখার উদ্দেশ্য সেগুলি আলোচনা করা নয়, আমি বরং দেখাবো হুমকি দিলেও কি কি কারনে বাস্তবে পুলিশ এ ধরনের কেস সহজে করতে চাইবে না।
আলোচনা শুরু করার আগে একটা প্রশ্ন, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করার কথা তো অনেক শুনেছেন, তবে টাকা না পেয়ে পুলিশ আসলেই মামলা করে দিয়েছে এমন কাহিনী কয়টা শুনেছেন? এই ধরনের ভূয়া মামলায় অভিযুক্তের সাজা হয়েছে এমনটাই বা কয়টা শুনেছেন? না তসলিমা নাসরিন স্টাইলে ‘আছে’ বললে হবেনা, আমাকে কনভিন্স করতে চাইলে সেটা আপনাকে দেখাতে হবে।
অসৎ পুলিশরা আপনাকে ফাসাতে চাইবে তিন কারনে, প্রথমত আপনার সাথে যদি তার ব্যাক্তিগত শত্রুতা থাকে (হয়তো সে পুলিশ হবার আগে তার বোনের ওড়না ধরে টান দিয়েছিলেন বা হয়তো জমি নিয়ে সেই পুলিশের পরিবারের সাথে আপনার পরিবারের ‘পিডাপিডি’ সম্পর্ক চলছে), অথবা আপনার রাজনৈতিক কর্মকান্ড তার দৃষ্টি ‘আকর্ষন’ করেছে, এবং তৃতীয়তঃ আপনি যদি তার ‘মিশন টু পাইস’ এর রিসিভিং এন্ড হয়ে থাকেন।
আমার আলোচ্য এখানে তিন নম্বর কারনটি, প্রথম দুইটি কারনে যারা পুলিশের ‘ভালবাসা’ লাভ করে থাকেন তারা সেটার ফাক-ফোকর আমার চেয়েও ভাল জানেন, তাদের জন্য এখানে না লিখলেও চলবে।
আপনি যদি নিম্নবিত্ত বা উচ্চবিত্ত হয়ে থাকেন তাহলে পুলিশ কতৃক আপনার এ ধরনের ঝামেলায় পরার সম্ভাবনা ক্ষীণ, পুলিশ জানে দরিদ্রদের টাকার জন্য ধরে তেমন লাভ নেই, একটু চিপলেই শেষ, এদের কাছে জেলখানায় যাওয়া অপমানজনক কিছু নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে বাজারের খরচ বেচে যাওয়া।
আর পুলিশ উচ্চবিত্তদের কেন এ ধরনের হয়রানী করতে যাবেনা? টর্নেডো, সুনামী, ভূমিকম্প এবং খাগড়াছড়িতে বদলি কে পছন্দ করে বলুন? নট টু মেনশন, যে দেশে রাস্তার নেড়ি কুত্তাকে লাথি মারলে সেটাও লোকাল নেতাদের নাম নিয়ে দাত খিচিয়ে ওঠে, সেখানে সেইরাম কোন বড়লোকের ছাওয়ালকে হেনস্থা করলে সেই পুলিশদের ইহকাল এবং পরকাল যে ঝরঝরে হয়ে যাবে সেটা ব্যাখ্যা করে বোঝানোর আদৌ কোন দরকার আছে কি?
তাহলে বাকি থাকলো কারা? আবার কে, মধ্যবিত্ত! জেলের নাম শুনলে যাদের গায়ে কম্প দিয়ে জ্বর উঠে যায়, লোকে শুনলে কি বলবে ভেবে যাদের হার্টবিট বেড়ে যায়, যারা একেবারে নাদান গরীব না আবার ভূমিকম্প করতে পারবে ততখানি বড়লোক বা ক্ষমতাশালীও নয় তারা!
মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে অসৎ পুলিশদের প্রধান অস্ত্র হচ্ছে ভীতি, মান-সম্মান হারানোর ভীতি, স্বাধীনতা হারানোর ভীতি। এই ভীতি গরীবের গায়ে লাগেনা, তার আছে কি যে হারাবে! বড়লোকদেরও লাগেনা, কোন সেইরাম বড়লোকের সন্তানকে যদি (আবারও বলছি যদি!) ফাসিয়ে জেলেও ঢোকানো হয় সে তা নিয়ে সে খুব একটা চিন্তিত বা দুঃখিত হয়না কারন তার ভালমতোই জানা থাকে যে সেখান থেকে বের হয়ে আসা তার জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আচ্ছা এবার আসি মূল কথায়, যে কারনে পুলিশ আপনাদের হুমকি দিলেও সচরাচর যে কারনে কেস দেবে না সে কারনে, আর সেটা হচ্ছে, একবার কেস শুরু হয়ে গেলে চাক বা নাই চাক, কেসটা পুলিশকে চালিয়ে যেতে হয়, চালিয়ে যাওয়া মানে হচ্ছে কোর্টে নিয়মিত হাজিরা দেয়া, প্রায় সময় আধাবেলা বা সারাদিন সেখানে বসে থাকা এবং জেরার নামে আমার মত হারামী উকিলদের নিয়মিত ঠাপের (অশ্লীল ভাষা ব্যাবহারের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী) শিকার হওয়া, একটা কেস চলে কমপক্ষে ২-৩ বছর, বেশী না, এমন ১০ টা ভূয়া কেস ফাইল করলে পুলিশকে আর রাস্তায় মানুষকে হয়রানী করতে হবে না, কোর্টের বারান্দায় পাছা ঘসেই বছরের পর বছর পার হয়ে যাবে। আরেকটা ব্যাপার না বললেই নয়, কেস যখন শুরু হয়ে যায় তখন মানুষ আর সেই পুলিশদের টাকা সাধে না, টাকার স্রোত তখন মুখ ফেরায় সরকারী পিপি এবং পারলে বিচারকদের দিকে (আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না অনেক সৎ বিচারকও আছেন), তো কেস করে অসৎ পুলিশ কি পাবে? ভিক্টিমের শত্রুতা এবং উকিলদের ঠাপ! যে সময়টা সে ‘শান্তিমত’ অন্য লোকদের দোহন করতে পারতো সেটা তখন তাঁকে কাটাতে হবে কোর্টে হাজিরার মত ‘অনুৎপাদনশীল’ খাঁতে।
আরেকটা ব্যাপার জেনে রাখলে ভাল করবেন, পুলিশ যদি কাউকে ‘মাদক’ সহ ধরে তাহলে গ্রেফতারকারী পুলিশকে সেই ‘ধৃত মাদক’ সরকারী তোষাখানায় জমা রাখতে হয়, আপনাকে দুই কেজী গাজাসহ গ্রেফতার করতে চাইলে পুলিশকে আগে নিজ দায়িত্বে দুই কেজী গাজা জোগাড় করে রাখতে হবে, জাস্ট একটা লজিকাল প্রশ্ন, আপনাকে ১০ গ্রাম ‘হেরোইন’ সহ গ্রেফতার করে কোর্টে চালান দেয়া (এবং সেই হেরোইন সরকারী তোষাখানায় জমা রাখা) অসৎ পুলিশের কাছে বেশী লাভজনক হবে নাকি সেটা নায্যমুল্যে কোথাও বিক্রি করে দেয়া?
আশা করি আপনাকে কেসে ফাঁসানোর ভয় দেখালেও পুলিশ কেন আপনাকে আসলে কেসে ফাসাবে না সেটা বোঝাতে পেরেছি।
ধন্যবাদ!
আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট



Leave a Reply