ব্রেকিং নিউজ

ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যয় বাড়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে উদ্যোক্তারা

রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫

অর্থনীতি ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

DCCI

 

ট্রেড লাইসেন্স ফি ৮৫২ দশমিক ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে বিভিন্ন সরকারি অফিসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এটা ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে নতুন উদ্যোক্তারা ব্যবসায় আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

রোববার বিকেলে মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে ব্যবসায় খরচ বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়। ডিসিসিআই এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ।

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইর সহ-সভাপতি মো. শোয়েব চৌধুরী। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, আইএফসি ব্যাংকে এসএমই বিভাগের টি আই এম রওশান জাদিদ, ডিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি এম এ মোমেন।

সেমিনারের শুরুতেই হোসেন খালেদ বলেন, দেশের অর্থনীতি ক্রমেই বৃদ্ধি পেলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় কমছে না। বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সের ফি অনুযায়ী একজন নতুন ব্যবসায়ী আমদানি, রপ্তানি এবং ইন্ডেটিং ব্যবসা করতে চাইলে তাকে সরকারের বিভিন্ন অফিসে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা ব্যবসায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।
‘ইজি ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট ২০১৫’ অনুযায়ী বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৩তম। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘দ্য গ্লোবাল এনাবলিং ট্রেড রিপোর্ট ২০১৪’ প্রতিবেদনে ব্যবসায়িক সক্ষমতা সূচকে ১৩৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৫তম। আর স্কোর ছিল ৭ এর মধ্যে ৩ দশমিক ৪। ২০১২ সালে ১৩২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৯তম। আর স্কোর ছিল ৭ এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায় ২০১৪ সালে সক্ষমতার সূচক ছয় ধাপ কমেছে। পাশাপাশি স্কোরও কমেছে।

হোসেন খালেদ বলেন, শুধু ট্রেড লাইসেন্স ফি বৃদ্ধির জন্যই ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যয় বেড়েছে, তা নয়। বিদ্যুৎ, গ্যাসের অভাবসহ নানা সমস্যায় ব্যবসার ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি নানামুখি হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসব হয়রানির মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি, জমির নিবন্ধন।

মূল প্রবন্ধে শোয়েব চৌধুরী বলেন, ইন্ডেটিং এবং কমিশন এজেন্টেরর লাইসেন্স ফি ১ হাজার টাকা থেকে ৪০০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ক্লিয়ারিং ও ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, ট্রাভেলিং এজেন্ট, রিক্রটিং এজেন্টের ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। রপ্তানি লাইসেন্স ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।