বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
ফেনী ঃ ফুলগাজী ও পরশুরামে যত্রতত্রে চলছে অবৈধ বালু আহরণের মহোৎসব। ফলে দুর্বল হয়ে দফায় দফায় ভাংছে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
এতে চরম ক্ষতি ও দুর্ভোগের মুখে পড়ছে লাখ লাখ মানুষ। অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছে বৈধ বালু মহালগুলো পুনরুদ্ধার ও অবৈধগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
২০০১ সালের পর থেকে পর্যায়ক্রমে বালু খেকো সিন্ডিকেটের নানা কৌশলী আইনি জটিলতায় ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ৭টি ও ফুলগাজী উপজেলার ৩টি বালু মহালের ইজারা দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। জেলা রাজস্ব বিভাগের হিসেব মতে, ইজারা বন্ধের কারণে প্রতি বছর তারা রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় দু’ কোটি টাকা।
তবে এ সময়ের মধ্যে গড়ে ওঠা অসংখ্য সিন্ডিকেট মুহুরী কহুয়া ও সিলোনীয়া নদী থেকে নৌকা, পাওয়ার টিলার ও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে অবাধে।
এদিকে, যত্রতত্র বালু উত্তোলনের কারণে প্রতি বছরের মত দফায় দফায় এবারও বাঁধের কোথাও না কোথাও ভেঙ্গে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। তবে এসব প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানুষ মুখ খুলতেও নারাজ।
ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাঁধ রক্ষা সম্ভব নয়।’
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আবু দাউদ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বালু মহালগুলো আবারও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ হলে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাবে।’
গত বছর থেকে এ পর্যন্ত অবৈধ বালু মহালগুলোতে ২২টি অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা ও ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper