বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম ঃ জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আইনজীবী ‘মিডিয়া ক্রসফায়ারের’ শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাদের কৌসুলীরা। তাদের দাবি, তিন আইনজীবী জবানবন্দিতে জঙ্গি অর্থায়নের কথা স্বীকার করেননি। অথচ মিডিয়া স্বীকারোক্তির ভুল তথ্য প্রচার করে তাদের দোষী বানিয়ে দিয়েছে। তবে তাদের বক্তব্য প্রত্যাখান করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম।
জবানবন্দি প্রদানকারী তিন আইনজীবী হলেন, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯), অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন (২৫)।
বুধবার (২৬ আগস্ট) তিন আইজীবী চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনের ২৩ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতের বাইরে ছিলেন তাদের কৌসুলী সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার ও কফিল উদ্দিন এবং অ্যাডভোকেট তারেক আহমেদ সিদ্দিকী।
এসময় অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবী মিডিয়া ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন বলে আমরা মনে করি। মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে, তারা জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি জবানবন্দিতে এ ধরনের কোন স্বীকারোক্তি দেননি।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার শাকিলা মক্কেলের টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি পেশাগত সততার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু মিডিয়া ক্রসফায়ারের মাধ্যমে তাকে দোষী বানিয়েছে।
সাত্তার বলেন, আমরা চাই রহস্য উদঘাটন হোক। ব্যারিস্টার শাকিলা কোন ধরনের জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি জঙ্গিবাদে বিশ্বাসও করেন না।
হেফাজতে ইসলামের নেতারা তাদের মামলা পরিচালনার সঙ্গে শাকিলার সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হেফাজত কি বলল, না বলল এটা তাদের বিষয়। তিনি মামলা পরিচালনা করেন, এটা দালিলিক বিষয়। চাপে পড়ে এখন হেফাজতের নেতারা উল্টাপাল্টা কথা বলছেন।
অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন বলেন, শাকিলা যথাযথ আইন মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরম পূরণ করে টাকা জমা দিয়েছেন। তার যদি জঙ্গি অর্থায়নের উদ্দেশ্য থাকত তাহলে কি তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিতেন ?
অ্যাডভোকেট তারিক আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, জবানবন্দিতে শাকিলা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জাতির সামনে আনা হোক। তাহলে বোঝা যাবে এটা ভুল বোঝাবুঝি। এ অভিযোগের কোন সারবত্তা নেই। জবানবন্দিতে তিনি যেটা বলেননি সেটাকেই সারা দেশে স্বীকারোক্তি বলে মিডিয়া চালিয়ে দিয়েছে। মিডিয়া আইনজীবীদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।
বাঁশখালী থানায় দায়ের হওয়া একটি অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় ২৩ আগস্ট আদালতে জবানবন্দি দেন তিন আইনজীবী। জবানবন্দিতে তিন আইনজীবী জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর প্রচার করে। বুধবার আরেক মামলায় জবানবন্দি দেয়ার সময় ওই খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিন আইনজীবীর কৌসুলীরা।
তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বলেন, শহীদ হামজা ব্রিগেডের নেতা মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডন এর সানজিদা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে তারা কোটি কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। এসব টাকা বাঁশখালীর লটমণি পাহাড়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং হাটহাজারীতে জঙ্গি আস্তানা তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে। আর্ন্তজাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশকে টার্গেট করেছে। লেনদেনের কথা জবানবন্দিতে তিনি (শাকিলা) নিজেই স্বীকার করেছেন। এখন উনি মক্কেলকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলছেন, এটা কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিনা।
তিন আইনজীবীর মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯) বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য পদেও আছেন তিনি।
অপর দু’জন হলেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) এবং ঢাকা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন (২৫)।
র্যাবের দাবি, তিন আইনজীবী চার ধাপে মনিরুজ্জামান ডনসহ কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে নগদে এক কোটি আট লক্ষ টাকা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দিয়েছেন ৫২ লক্ষ টাকা। তিনি প্রথম ধাপে ২৫ লক্ষ ও পরবর্তী ধাপে ২৭ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছেন। হাসানুজ্জামান লিটন ৩১ লক্ষ টাকা এবং বাপন দিয়েছেন ২৫ লক্ষ টাকা।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper
