ব্রেকিং নিউজ

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা বাতিলে জন্য সরকারকে নোটিস

বুধবার,২৬ আগস্ট,২০১৫
আইন ও অপরাধ,সিটিজিবার্তা২৪.কম

rule

 
সুপ্রিমকোর্টের ইউনুস আলী নামের এক আইনজীবি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ও’
৮৬ ধারা বাতিলের জন্য সরকারকে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন।,

ইউনুছ আলী  বুধবার রেজিস্ট্রি ডাকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ
প্রযুক্তি সচিব এবং তথ্য সচিবকে ওই নোটিস পাঠান।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘৫৭’ ও ‘৮৬’ দুটি ধারা বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া না
হলে নোটিসদাতা রিট আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে যাবেন।


ইউনুছ আলীর নোটিসে বলা হয়, তথ্য- প্রযুক্তি আইনের ৮৬ ধারা বৈষম্যমূলক
এবং মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। এই ধারায় সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যে
ছাড় দেওয়া হয়েছে তা সংবিধানের  ২৭ ও ২৮ ধারারও লঙ্ঘন।
সংবিধানের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অন্য কোনোভাবে
রাষ্ট্র নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করতে পারবে না।২০১৩ সালে সংশোধিত আইন দুটির মধ্যে ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- ওয়েবসাইটে

প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে,
এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তা হবে
অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ কোটি টাকা
জরিমানা।
এবং ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে ‘সরল বিশ্বাসে করা’ কোনো
কাজের কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা হওয়ার আশঙ্কা
দেখা দিলে সে জন্য সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে
মামলা বা কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

এ দুটি আইন হওয়ার পর থেকেই আইন দুটিকে ‘বাক স্বাধীনতা পরিপন্থি’ হিসেবে
চিহ্নিত করে তা বাতিলের আহবান জানিয়ে আসছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

কিছুদিন আগে ফেইসবুকে একজন  মন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যের কারণে এক
সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে এই আইনের মামলায়
গ্রেপ্তার করার পর বিষয়টিআবার আলোচনায় আসে।
অধিকার আদায়ের কর্মীরা ও সম্পাদক পরিষদের পক্ষ
থেকেও ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি
জানানো হয়।
ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ও ৮৬
ধারা সংবিধানের ৭, ২৭, ৩৯ ও ৪০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার
মালিক জনগণ।২৭ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সকল নাগরিককে ‘সমান
অধিকার’ দেওয়া হয়েছে। ৩৯ অনুচ্ছেদে দেওয়া হয়েছে ‘চিন্তা ও
বিবেকের’ এবং বাক, ভাব প্রকাশ ও,সংবাদপত্রের ‘স্বাধীনতার নিশ্চয়তা’।
৪০ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের অধিকারের
কথা বলা হয়েছে।