বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৫
রাশেদুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ঃ চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত তেলের কন্টেইনার থেকে তরল কোকেন আটকের ঘটনায় আটজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করা হয়।
চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন-লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক বকুল মিয়া, ফজলুর রহমান ফজলু, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি আলম, সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার এ কে আজাদ, গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান এবং আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল|
চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সহকারি কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমকে বলন,’চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক বকুল মিয়া ও ফজলুর রহমান ফজলু পলাতক রয়েছে। অন্যদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম গত ১৮ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।’
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন,’মাদক আইনের ধারায় অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়েছে। চোরাচালান আইনের ধারায় পরবর্তীতে সম্পূরক প্রতিবেদন দেয়া হবে।’
সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান বলেন,’নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট চার্জশিট দেখে তার বক্তব্য দিবেন। চার্জশিট গৃহীত হলে আদালত সেটা বিচারের জন্য প্রস্তুত করে দায়রা জজ আদালতে পাঠাবেন।’
প্রসঙ্গত, পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তরল কোকেন সন্দেহে গত ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কন্টেইনার সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে উন্নত ল্যাবে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
২৭ জুন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, কেমিক্যাল পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ২৮ জুন নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পরে মামলায় চোরাচালানের ধারাও যুক্ত করা হয়।
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
