সিএমপির চার পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

CMP

চট্টগ্রাম ঃ বন্দর নগরীর ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় নীরহ এক ব্যবসায়ীকে ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর দায়ে অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল।

শনিবার তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল এ আদেশ দেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, ডবলমুরিং থানার এস আই মো. আলমগীর হোসেন, এএসআই মো. হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল ছালেহ উদ্দিন ও কনস্টেবল সুজিত দে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির উপ কমিশনার (পশ্চিম) সঞ্জয় কুমার কুণ্ড সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘গত ৭ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে মেয়ের জন্য ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়ে পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ আটক হয়েছিলেন ব্যবসায়ী নুরুল আলম চৌধুরী (৩৮)। তবে তিনি বিষয়টিকে সাজানো উল্লেখ করে পুলিশের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি আবেদন করেন। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে সেই অভিযোগের তদন্ত করে আমি গত ৩০ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম। আজ কমিশনার স্যার অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এস অই আতাউল হককে অব্যাহতি দিয়েছেন।’

সিএমপি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন মুনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনীর পেছনের রাজা মিয়ার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম চৌধুরী গত ৭ অক্টোবর রাতে ঘর থেকে বের হন মেয়ের জন্য ওষুধ কিনতে। এসময় পথে হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে থামে তার সামনে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই জোরপূর্বক তাকে তোলে নেয়া হয় ওই মাইক্রোবাসটিতে। এরপর মাইক্রোবাসে থাকা পাঁচজন নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে নুরুল আলমের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। নুরুল আলম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ৫০ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করে ওই পুলিশ সদস্যরা।

তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ার জন্য জাহাঙ্গীর আলম ও মো. আমির উদ্দিন নামে এলাকার দুই ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষরও নেয় পুলিশ। এরপর ইয়াবা বিক্রেতা হিসেবে মামলা রুজু করে নুরুল আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এভাবে নিরীহ লোককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার ও মামলা দেয়ার প্রতিবাদে ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি হয়ে উঠে এলাকার লোকজন। তারা ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিচার চেয়ে গণসাক্ষর করে এক কপি ডবলমুরিং সংসদীয় আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিনকে দেন। আরেক কপি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. আবদুল জলিল মন্ডলকে দেন এলাকাবাসি।

সিএমপি কমিশনার ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) সঞ্জয় কুমার কুণ্ডুকে দায়িত্ব দেন। সেইসঙ্গে তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পেলে ওই পুলিশ সদস্যদেরকে বিভাগীয় শাস্তি দেয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যরা হলেন- ডবলমুরিং থানার এসআই মো. আতাউল হক চৌধুরী, এসআই মো. আলমগীর হোসেন, এএসআই মো. হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল ছালেহ উদ্দিন ও কনস্টেবল সুজিত দে।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে গত ৩০ অক্টোবর সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের মধ্যে এসআই আতাউল হককে বাদ দিয়ে অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন। এর প্রেক্ষিতে শনিবার সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

জন মন্তব্যকারী




Leave a Reply

Inline