শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম ঃ মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর নিয়ে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ সর্তকতা অবস্থায় রয়েছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। নগর পুলিশের পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা নিয়েছে জেলা পুলিশও। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পৃথক পৃথকভাবে জরুরী বৈঠকে বসেছেন সিএমপি ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
শনিবার বিকেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পরই নগরী ও জেলায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সিএমপির প্রতিটি থানায় ২০ সদস্যের একটি করে এসআরএফ (স্পেশাল রায়ট ফোর্স) টিম পাঠানো হয়েছে। যেটি কোনো সংকটময় মূহুর্তে মাঠে নামানো হয়। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ১২ ফ্ল্যাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অভিযান ও অপরাধ) দেবদাস ভট্টাচার্য বাংলামেইলকে বলেন, ‘দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরকে কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় সিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এমননিতেই গত মাস থেকে নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন সেটিকে আরো জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব পালন করবে র্যাব, বিজিবি ও সংকটকালীন সময়ে মাঠে থাকা এসআরএফ।’
তিনি আরো বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাৎক্ষণিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এছাড়া নগরীর চার প্রবেশপথ চান্দগাঁও থানার মোহরা, বায়েজিদ থানার অক্সিজেন, আকবরশাহ থানার সিটি গেইট ও বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু এলাকায় স্থায়ী চারটি চেকপোস্ট বসিয়ে শহরে প্রবেশকারী প্রতিটি যানবাহনকে তল্লাশি করা হচ্ছে।’
এদিকে রাউজানের বাসিন্দা ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মরদেহ নিয়ে যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ মোতায়ন করেছে জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবি মোতায়ন রয়েছে। এছাড়া সাকার মরদেহ নিয়ে গাড়ি বহর যে সড়ক দিয়ে গহিরা যাবে ওই সড়কেও বাড়তি ফোর্স মোতায়ন করা হচ্ছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে গত ২৫ অক্টোবর থেকে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় নগরজুড়ে কঠোর নিরাপত্ত বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে চেক পোস্ট ও টহল পুলিশের সংখ্যা। নগরীর সব সরকারি স্থাপনায় সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি স্থাপনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পতেঙ্গায় অবস্থিত তেল স্থাপনাসহ কেপিআইগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দিনাজপুরে মিশনারি হাসপতালের ইতালীয় চিকিৎসক দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হওয়ায় বন্দর নগরীর গীর্জাগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। পুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজও শুরু করেছে সিএমপি।
এরমধ্যে নতুন করে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ডগ স্কোয়াড মোতায়ন করেছে বিজিবি। দুটি প্রশিক্ষিত ডগের সমন্বয়ে ১২ জন বিজিবি সদস্যের এ ডগ স্কোয়াড বিমান বন্দর দিয়ে আসা মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরক উদ্ধারে কাজ করছে। তারও আগে থেকে বিমান বন্দরে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এপিবিএনের প্রায় দুইশ বাড়তি ফোর্স মোতায়ন রয়েছে। যাত্রী প্রবেশ ও বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সর্তকতার সাথে তল্লাশি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিমান বন্দর নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার দাবি করছে পুলিশ।
এদিকে সাভারের আশুলিয়ায় চেক পোস্টে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শিল্প পুলিশের কনেস্টেবল মুকুল মিয়া নিহত হওয়ার পরপর দেশজুড়ে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি দেয়া হয় বিশেষ নির্দেশনা। এছাড়া তল্লাশির সময় শিথিলতা পরিহার করে যথাযত সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে। তল্লাশির সময় কমপক্ষে একজন অতিরিক্ত উপ কমিশনারকে (এডিসি) সেটি তদারকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের গুলিভর্তি অস্ত্র, বুলেট প্রুপ জ্যাকেট, হেলমেট ও ল্যাগ গার্ড পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোঁড়ার বিষয়টিও নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশ সদস্যদের।
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
