সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বৃহস্পতিবার, ৯ জুন ২০১৬
চট্টগ্রাম : দিন শেষে সন্ধ্যা নেমে আসতেই অন্ধকারে ডেকে যায় বন্দর নগরী। এসময়টাতে অনেকটা অনিরাপদ ও অচল হয়ে ওঠে রাস্তাঘাট আর অলিগলিগুলো। অথচ প্রায় ৭০ লাখ মানুষের বসবাসরত এই নগরীকে আলোকোজ্জ্বল, নিরাপদ ও সচল রাখার দায়িত্বে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন। বেলা ডুবলেই জ্বলে ওঠার কথা নগরীর সড়কের ল্যাম্পপোস্টগুলো। আলো জ্বালিয়ে অন্ধকারের ভয় তাড়ানোর কথা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের। কিন্তু আলোতো জ্বলে না। ল্যাম্পপোস্টগুলো দাঁড়িয়ে থাকে মৃত। অন্ধকারে রাজত্ব বাড়ে দুর্বৃত্তদের। এটা বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের নিত্য সঙ্গী।
তবে সমস্যাগুলো থাকছেনা আর রাতে কোনো নগরী থাকবে না অন্ধকারে। প্রয়োজন নেই রাস্তার ধারে সাজানো ল্যাম্পপোস্টের। এসবের দিন প্রায় শেষ হতে চলেছে। তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মেক্সিকোর মিচোয়াকান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি তারা এমন এক ধরনের সিমেন্ট আবিষ্কার করেছে, যা থেকে আলো বিকিরিত হয়। আলো ছড়ানো এ সিমেন্ট পরীক্ষামূলকভাবে রাস্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিকভাবে শুধু নীল ও সবুজ রং নির্গত করে এ বিশেষ সিমেন্ট। এ সিমেন্ট নাকি কমপক্ষে ১০০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, দিনের বেলায় সূর্যের তাপ থেকে আলো গ্রহন করবে এ সিমেন্ট। সূর্যাস্তের পর সেই আলো আবার ফিরিয়ে দেবে। এমনকি আলোর মাত্রা নিয়ন্ত্রণও করা যাবে।
বিজ্ঞানী দলের একজন ড. জোস কার্লোস রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, সিমেন্ট তৈরির সময় তা প্রাথমিকভাবে আঠার মতো পদার্থে রূপান্তরিত হয়। সেসময় তার ভিতরে ক্রিস্টল জাতীয় কিছু কণা থাকে। সেই কণাগুলোকে পৃথক করে দিলে আঠার মতো জেল পদার্থটিকে ধরে রেখে সিমেন্ট তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে ওই জেল জাতীয় পদার্থ সূর্যের আলো শোষণ করে তা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবে এবং প্রয়োজনমতো নির্গত করতে পারবে।
ড. রুবিও জানান, ৯ বছর আগে প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছিলেন তারা। এ আবিষ্কারের ফলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। কারণ তারা পৃথিবীকে নতুন এক দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছেন।

