শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মাহাবুবুল করিম : ‘ইয়াবা তৈরি করে মায়ানমার, ফেন্সিডিল করে ভারত’ কিন্তু আমরা কোনো মাদক তৈরি করি না। অথচ এর কুফল ভোগ করছি আমরা বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
‘মায়ানমার ও ভারত থেকে মাদকদ্রব্য পাচার রোধের জন্য আমরা দুই দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। ভারত আমাদের কথামতো সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল কারখানা সরিয়ে দিয়েছে। মায়ানমারও সম্মত হয়েছে।’
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব -৭ কার্যালয়ে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের কারখানা সরিয়ে নিতে ভারত ও মায়ানমার একমত হয়েছে| ‘আমরা মায়ানমারকে বলেছি তোমরা সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা কারখানা সরিয়ে নাও। আমরা তোমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপরায়ণ সম্পর্ক চাই।
সভা শেষে সাংবাদিকদের এক বিফ্রিংয়ে হবিগঞ্জের বাহুবলে চার শিশুকে হত্যার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রথমদিনেই জড়িত কয়েকজনকে ধরেছে, র্যাবও একজনকে ধরেছে। গ্রেফতাররা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ দুই-একদিনের মধ্যেই এর মূল ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরবে। ’
সাম্প্রতিককালে পুলিশের কিছু সদস্যের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এক লাখ ৭০ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী পুলিশ। এর মধ্যে দুই-একজন অপরাধ করতে পারে। নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রমাণ হলেই তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এটি কার্যকর থাকবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর মাদক নির্মূলে কাজ করার জন্য বলেছেন। আমি মাদকদ্রব্য নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু মাদকের সহজলভ্যতার কারণে তা সহজেই নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ একজন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলে কেউ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয় না। ফলে আইনের ফাঁকফোকরে সে কারাগার থেকে বেরিয়ে আবারও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কারাগারের একটা বড় অংশই মাদকসেবী। এটি নির্মূলে জনগণকেই সম্পৃক্ত হতে হবে। গণসচেতনতা বাড়াতে হবে।’
মাদক নির্মূলে র্যাব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রে গিয়ে মাদকদ্রব্য ধরা র্যাবের কাজ না। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে তারা সেটি করছে। সমুদ্রে অভিযান চালাতে র্যাবকে একটি জাহাজ দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তারা মাদক উদ্ধারে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছে। র্যাবকে আরও ঢেলে সাজানো হবে। আমাদের প্রয়োজনে র্যাবকে যেখানে চাইব, র্যাব সেখানেই যাবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিন, নগর পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দীন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. ফজলুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার, র্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব জানায়, বিভিন্ন সময়ে আটক করা ৪৫,২৯,২০০ পিস ইয়াবা, ১৫২ কেজি গাঁজা, ৪৩১৯ বোতল ফেনসিডিল, ২৩৯ বোতল বিদেশি মদ ও ৩১৪ ক্যান বিয়ার ধ্বংস করেন মন্ত্রী।
এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ১৮১ কোটি ৪৮ লক্ষ ৭ হাজার ৯০০ টাকা।
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম/এমকে

