বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
ক্রীড়া প্রতিবেদক, মিরপুর থেকে : বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি আসরের পর্দা উঠেছে আজ বুধবার।
টাইগারদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন ৮ ম্যাচ খেলা সৌম্য সরকার ও ৩ ম্যাচ খেলা মোহাম্মদ মিথুন। তবে, শুরুটা ভালো করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আশিষ নেহরা বোল্ড করেন ১ রান করা মোহাম্মদ মিথুনকে। পরের ওভারে সৌম্যকে ফিরিয়ে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। উইকেটের পেছনে ধোনির গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে সৌম্য ১৪ বলে ১১ রান করেন।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ ওভারে দুই উইকেটে ৪২ রান। ক্রিজে ব্যাট করছেন ইমরুল ও সাব্বির।
এর আগে ইনিংসের প্রথম দিকে টাইগার বোলারদের দারুণসব ডেলিভারিতে বিপর্যয়ে পড়া ভারত নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৬ রান। টপঅর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দ্রুত ফিরিয়ে দেন লাল সবুজের জার্সিধারী বোলাররা। তবে, উইকেটের এক দিক আগলে রেখে ওপেনার রোহিত শর্মা করেন ৮৩ রান। শেষ দিকে হারদিক পান্ডে খেলেন দ্বিতীয় সবোচ্চ ৩১ রানের ইনিংস।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হবে ১৬৭ রান।
ম্যাচের ওভার প্রতি স্কোর ঃ
৭ ওভার শেষে : বাংলাদেশ ৩৬/২ (কায়েস ৯, সাব্বির ১৪); পান্ডে ১-০-৪-০।
৬ ওভার শেষে : বাংলাদেশ ৩১/২ (কায়েস ৯, সাব্বির ১২); বুমরাহ ৩-০-১৪-১।
৫ ওভার শেষে : বাংলাদেশ ২৭/২ (কায়েস ৬; সাব্বির ৯); নেহেরা ৩-০-১৭-১।
৪ ওভার শেষে : বাংলাদেশ ১৯/২ (কায়েস ৪, সাব্বির ৩); বুমরাহ ২-০-১০-১। বুমরাহ এর বলে ধোনি হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সৌম্য সরকার (১১)।
৩ ওভার শেষে : বাংলাদেশ ১৫/১ (সৌম্য ১১; সাব্বির ৩); নেহেরা ২-০-৯-১। নেহেরার বলে বোল্ড হয়ে যান মোহাম্মদ মিথুন (১)।
২ ওভার শেষে : বাংলাদেশ ৯/০ (সৌম্য ৮, মিথুন ১); বুমরাহ ১-০-৬-০।
১ ওভার শেষে : বাংলাদেশ ৩/০ (সৌম্য ৩, মিথুন ০); নেহেরা ১-০-৩-০।
এর আগে ভারতের ইনিংসে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন রোহিত শর্মা। তার এই ইনিংসে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার মার ছিল। এ ছাড়া হার্দিক পান্ডে ১৮ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানে ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
বল হাতে বাংলাদেশের সেরা বোলার আল-আমিন হোসেন। তিনি ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নেন মাশরাফি, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
২০ ওভার শেষে : ভারত ১৬৬/৬ (ধোনি ৮, জাদেজা ০); আল-আমিন ৪-০-৩৭-৩। শেষ ওভারে রোহিত শর্মা (৮৩) ও হার্দিক পান্ডেকে (৩১) নিজের শিকারে পরিণত করেন আল-আমিন।
১৯ ওভার শেষে : ভারত ১৫৭/৪ (রোহিত ৮৩, পান্ডে ৩০); মুস্তাফিজ ৪-০-৪০-০।
১৮ ওভার শেষে : ভারত ১৪৯/৪ (রোহিত ৮২, পান্ডে ২৪); আল-আমিন ৩-০-২৮-১।
১৭ ওভার শেষে : ভারত ১৩৬/৪ (রোহিত ৭৯, পান্ডে ১৪); মুস্তাফিজ ৩-০-৩৩-০।
১৬ ওভার শেষে : ভারত ১১১/৪ (রোহিত ৭২, পা্ন্ডে ১); মাশরাফি ৪-০-৪০-১।
১৫ ওভার শেষে : ভারত ৯৭/৪ (রোহিত ৫৫, পান্ডে ০); সাকিব ৩-০-১৫-১। সাকিবের বলে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন যুবরাজ (১৫)।
১৪ ওভার শেষে : ভারত ৯০/৩ (রোহিত ৪৯, যুবরাজ ১৫); মুস্তাফিজ ২-০-১২-০।
১৩ ওভার শেষে : ভারত ৮১/৩ (রোহিত ৪৬, যুবরাজ ৯); সাকিব ২-০-৯-০।
১২ ওভার শেষে : ভারত ৭৬/৩ (রোহিত ৪৩, যুবরাজ ৭); মাশরাফি ৩-০-২২-১। টি-টোয়েন্টিতে যুবরাজের ১০০০ রান পূর্ণ হয়।
১১ ওভার শেষে : ভারত ৬৬/৩ (রোহিত ৩৫, যুবরাজ ৫); তাসকিন ২-০-২২-০। ১০.৩ ওভারের সময় পয়েন্টে রোহিতের ক্যাচ ছাড়েন সাকিব।
১০ ওভার শেষে : ভারত ৫২/৩ (রোহিত ২১, যুবরাজ ৫); মাহমুদউল্লাহ ২-০-৯-১।
৯ ওভার শেষে : ভারত ৪৭/৩ (রোহিত ১৮, যুবরাজ ৩); সাকিব ১-০-৪-০।
৮ ওভার শেষে : ভারত ৪৩/৩ (রোহিত ১৬, যুবরাজ ১); মাহমুদউল্লাহ ১-০-৪-১। রায়নাকে বোল্ড করেন মাহমুদউল্লাহ।
৭ ওভার শেষে : ভারত ৩৯/২ (রোহিত ১৪, রায়না ৯); মাশরাফি ২-০-১২-১।
৬ ওভার শেষে : ভারত ৩১/২ (রোহিত ১০, রায়না ৯); আল-আমিন ২-০-১৫-১।
৫ ওভার শেষে : ভারত ২৩/২ (রোহিত ১০, রায়না ১); মাশরাফি ১-০-৪-১। কোহলিকে আউট করেন মাশরাফি।
৪ ওভার শেষে : ভারত ১৯/১ (রোহিত ৭, কোহলি ৮); মুস্তাফিজ ১-০-৩-০।
৩ ওভার শেষে : ভারত ১৪/১ (রোহিত ৭, কোহলি ৬); তাসকিন ২-০-৮-০।
২ ওভার শেষে : ভারত ৯/১ (রোহিত ৫, কোহলি ১); আল-আমিন ১-০-৭-১। শেখর ধাওয়ানকে ফেরান আল-আমিন।
১ ওভার শেষে : ভারত ২/০ (রোহিত ১, ধাওয়ান ০); তাসকিন ১-০-১-০।
গত সোমবার ফতুল্লায় অনুশীলনের সময় পিঠের পেশিতে চোট পান ভারতের অধিনায়ক ধোনি। তবে ইনজুরি মুক্ত হয়ে আজকের ম্যাচে খেলছেন তিনি।
আল আমিনের প্রথম আঘাতের পর টাইগারদের হয়ে দ্বিতীয় উইকেটটি তুলে নেন মাশরাফি। এরপর উইকেট শিকারে যোগ দেন রিয়াদ। ভারতের চতুর্থ উইকেট দখল করেন সাকিব। শেষ ওভারে আরও দুটি উইকেট পান আল আমিন।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টাইগারদের এবারের মিশনের প্রথম প্রতিপক্ষ ভারত। বৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে টস জিতে এ ম্যাচে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগারদের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইন আপের বিরুদ্ধে টাইগারদের হয়ে বোলিং উদ্বোধন করতে আসেন তাসকিন আহমেদ। ভারতের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মাশরাফি বোলিং আক্রমণে আনেন আল আমিনকে। তৃতীয় বলেই শিখর ধাওয়ানকে বোল্ড করে ভারতের এই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরত পাঠান আল আমিন। সে বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩৪ কিমি। মাত্র ২ রান করেই বিদায় নেন ধাওয়ান।
আল আমিনের পর টাইগারদের হয়ে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন মাশরাফি। টাইগারদের দলপতি বিরাট কোহলিকে মিডঅফে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ তুলে দিতে বাধ্য করেন। বিদায়ের আগে কোহলি করেন মাত্র ৮ রান।
ইনিংসের অষ্টম ওভারে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বলে বোল্ড হন ১৩ রান করা সুরেশ রায়না।
কিছুটা বিরতির পর ইনিংসের ১৫তম ওভারে সাকিবের করা বলে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন যুবরাজ। ডিপ মিডউইকেটে সৌম্যর হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ১৬ বলে করেন ১৫ রান। দলীয় ৪২ রানে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপাকে পড়া ভারতকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন টি-টোয়েন্টিতে এক হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া যুবরাজ সিং ও রোহিত শর্মা। তারা দু’জন স্কোরবোর্ডে আরও ৫৫ রান যোগ করেন।
উইকেটে সেট হয়ে টাইগার বোলারদের শাসন করেন রোহিত। মাত্র ৫৫ বলে ৭টি চার আর ৩টি ছক্কায় তিনি ৮৩ রান করেন। ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে আল আমিন ফেরান রোহিতকে। দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে রোহিতকে ফেরান সৌম্য সরকার।
আল আমিনের চতুর্থ বলে সাজঘরে ফেরেন হারদিক পান্ডে (৩১ রান)। রিয়াদের তালুবন্দি হওয়ার আগে পান্ডে ১৮ বলে ৪টি চার আর একটি ছক্কা হাঁকান। রোহিতের সঙ্গে পান্ডে ৬১ রানের জুটি গড়েন। ধোনি ২ বলে একটি ছক্কায় করেন ৮ রান।
বাংলাদেশ চার পেসার আর সাতজন ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নামে। ইনজুরির শঙ্কা কাটিয়ে টিম ইন্ডিয়াকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
টাইগারদের হয়ে আল আমিন তিনটি উইকেট দখল করেন। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন সাকিব, মাশরাফি, মাহমুদুল্লাহ। উইকেট শূন্য থাকেন তাসকিন ও মুস্তাফিজ।
বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান ও আল-আমিন হোসেন।
ভারত একাদশ: শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটরক্ষক), হারদিক পান্ডে, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জাসপ্রিত বুমরাহ ও আশিষ নেহরা।

