জেলা সংবাদদাতা, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০১৬

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেছেন, দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব বিচারহীনতার চ্যাম্পিয়নশিপ পাবেন। ত্বকী হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে তনু হত্যা পর্যন্ত বিচারহীনতার দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি মোম শিখা প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যার ৩৭ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র প্রদানের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মাসিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকী বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ‘রাজন রাকিবের সুভাগ্য যে তাদের হত্যাকারীরা সরকার দলীয় কেউ না। এজন্যই সাড়ে তিন মাসের মধ্যে তাদের বিচার হয়ে যায়। কিন্তু ত্বকী হত্যা, সাগর রুনি হত্যা, আশ্বিক হত্যা, চঞ্চল হত্যার বিচার হয় না। এমনকি তাদের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রও দেয়া হয় না। তারপরও আমরা বিচার চেয়ে যাবো। কারণ এ দেশে একটি পরিবারের না। সরকার হত্যাকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। তেমনি এ হত্যার দায়বার সরকারকেই নিতে হবে’।
নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন,‘ত্বকী হত্যার সঙ্গে জড়িত আজমীর ওসমান সহ সকল আসামী জামিন নিয়ে বিদেশ পালিয়ে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্ধিক, সিপিবির জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দিপু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সুজিত সরকার ,গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তারিকুল সুজন, শ্রমিক নেতা দুলাল সাহা, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি অঞ্জন দাস প্রমুখ।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। যা আগামী ৬ জুন পরবর্তী শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। মামলাটি বর্তমানে র্যাবের হেড কোয়াটার তদন্ত করছে।
প্রসঙ্গ ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাষা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮ জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী জারিকৃত পরোয়ানা এখনও বহাল আছে। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের ৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি।
