শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৫
দ্বীপান্বিতা চামেলি , সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক : আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় ডিসেম্বরের মধ্যে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকারের পৌরসভা নির্বাচন করতে সব দিক থেকে প্রস্তুত ইসি। তবে বাধ সেজেছে আইন মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা ভেটিং ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে আবার সংশোধন আনা নিয়ে। পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ বাদ দেয়া হচ্ছে। শুধু মেয়র পদে দলীয় প্রতীক ব্যবহার রাখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে মন্ত্রী-এমপিদের সরকারি সুবিধা ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় সফর ও প্রচারণার সুযোগ রেখে প্রস্তাবটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত বিধিমালা পাঠাতে পারেনি ইসিতে।
সরকার পৌরসভা নির্বাচনে কী ধরনের বিধিমালা চাচ্ছে এ বিষয়ে এখনও অন্ধকারের মধ্যে আছে ইসি কর্মকর্তারা। বিধিমালা হাতে না পাওয়ায় ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পৌর নির্বাচনে তফসিলও ঘোষণা করতে পারছে না ইসি।
`জানুয়ারিতে নির্বাচন টেনে নেয়ার সম্ভাবনা’ আছে কি না জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সিটিজিবার্তা২৪ডটকম বলেন, ‘আমরা এখনও পর্যন্ত ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচন করতে আগ্রহী। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিক পর্যন্ত বিধিমালার জন্য অপেক্ষা করব। এরপর অন্য ডিসিশন নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মনে করেছিলাম এ সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিধিমালা পাব। সে হিসেবে এ সপ্তাহেই পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতিও ছিল। যেহেতু বিধিমালা আসেনি, সেহেতু আশা করছি আগামী সপ্তাহে বিধিমালা পাব। আর বিধিমালা পেলেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।
তবে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে জটিলতার মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইনে আবার সংশোধনীর ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই আইনে পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার সিটিজিবার্তাটোয়েন্টিফোরডটকম কে বলেন, ‘আমরা জেনেছি, পৌরসভায় মেয়র পদে শুধু দলভিত্তিক প্রার্থী থাকছে। আর কাউন্সিলদের বাদ দেয়া হচ্ছে। আবার সংশোধনী আনার কারণে বিধিমালাও আটকে আছে।’
তিনি জানান, পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ভোট না হলেও আইনগত কোনো জটিলতা দেখা দেবে না। তারা আগের মতোই নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করার সুযোগ পাবে।
এদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, সব ধরনের সংশোধনী শেষে ১৮ নভেম্বর এ সংক্রান্ত আইন সংসদে পাস হবে। তখনই সবাই জানবে কীভাবে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। একবার সংসদে বিল পাস হলে আর কোনো বাধা নেই। স্থানীয় সরকারের মেয়র পদে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগের মতো নির্দলীয়ভাবে প্রার্থিতার সুযোগ পাবেন বলেও জানান কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, আবার আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ার কারণে বিধিমালার ভেটিং আটকে রয়েছে। আইন সংশোধনের পরই বিধিমালা জারির সব প্রক্রিয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদি বুধ-বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন, বিধিমালা জারি হয় তবে দ্রুত তফসিল দিয়ে ২৯-৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট শেষ করা যাবে। তাহলে তফসিল ঘোষণার পর অন্তত ৪০ দিন সময় পাওয়া যাবে।
ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পৌরসভা নির্বাচন অধ্যাদেশ অনুযায়ী মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে অংশ নেবেন। বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।
এ অধ্যাদেশের আলোকে ইসির পাঠানো নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য রয়েছে।
ইসির তথ্যমতে, বর্তমানে সারাদেশে পৌরসভার সংখ্যা ৩২৩টি। এর মধ্যে ২০১১ সালে নির্বাচনী উপযোগী ২৬৯টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল সাবেক ড. শামসুল হুদা কমিশন। তবে এবার স্থানীয় সরকারের দেয়া তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ২৪৫টি নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
নির্ভরযোগ্য সংবাদপোর্টাল Bangladesh Popular Online Newspaper In Action
