সোমবার ,১৬ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ক্লাস ফাঁকি ঠেকাতে নগরীর কয়েকটি স্কুলে এসএমএস অ্যালার্ট সিস্টেম চালু হয়েছে আনেক আগে থেকে । কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে কোন বিদ্যালয়ে এখনো এই সিস্টেমটি চালু হয়নি। এবার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে হাটহাজারী গরদুয়ারা ইউনিয়নের ড.শহিদুল্লাহ একাডেমী।
বিদ্যালয়টিতে স্কুল ফাঁকি রোধে এসএমএস অ্যালার্ট সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
উপজেলা পর্যায়ে কোন স্কুলে প্রথম এই পদ্ধতি চালু হচ্ছে। একই সঙ্গে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শ্রেণিকক্ষ মনিটরিংয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যক্রমও চালু করা হবে।
জানা গেছে, ড.শহীদুল্লাহ একাডেমির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরীর উদ্যোগে এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থী আবদুল মাবুদ তালুকদার ও আবু মুছা তালুকদারের সহযোগিতায় এ সেবা চালু হচ্ছে। ডব্লিউথ্রিএক্সপ্লোরার্স বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ড.শহীদুল্লাহ একাডেমি সূত্র থেকে জানা গেছে, স্কুলে দুইটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন বসানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেশিনে স্মার্ট কার্ড স্পর্শ করে স্কুলে প্রবেশ করবেন। এর সঙ্গে একটি এসএমএস এলার্ট ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইলে চলে যাবে। একইভাবে বের হওয়ার সময় স্মার্ট কার্ড স্পর্শ করানোর সাথে সাথে অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএস চলে যাবে।
কোন শিক্ষার্থী সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ে প্রবেশ না করলে অটো এলার্ট পদ্ধতিতে অভিভাবকের কাছে এসএমএস যাবে। ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে। শুধু উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির হার নয় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে অভিভাবকরা পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারবেন।
ড.শহীদুল্লাহ একাডেমির প্রধান শিক্ষক শিমুল কান্তি মহাজন জানান,‘ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অভিভাবক সমাবেশ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। অনেকে মোবাইল ফোনে তার ছেলে মেয়ে স্কুলে এসেছে কি না জানতে চান। আবার বাসায় একটু দেরিতে ফিরলেও ফোন করে জানতে চান। এখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জানতে পারবেন সন্তান কখন স্কুলে এসেছে কখন স্কুল থেকে বের হয়েছে।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ফলাফল খারাপ করলে অনেক সময় অভিভাবকদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে চান। ফলে অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকেন। এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস এর মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছে তাদের সন্তানের ফলাফল পৌঁছে যাবে।
প্রধান শিক্ষক শিমুল মহাজন জানান, ‘শুধু উপস্থিতির হার নয় এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বেতনের হিসাব নিকাশ, বিভিন্ন ক্লাস পরীক্ষার ফলাফল, নোটিশ জানা যাবে। এতে অভিভবাকদের মধ্যে সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়বে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বলেন, ‘দেশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা পিছিয়ে থাকবো কেন। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের দুইজন প্রাক্তন ছাত্র এগিয়ে এসেছে। আশা করছি এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হবে।’
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
নির্ভরযোগ্য সংবাদপোর্টাল Bangladesh Popular Online Newspaper In Action