কর্ণফুলীতে ছিনতাইয়ের শিকার ভারতীয় নাগরিক

বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৫ 

সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম

ctg bnpচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীতে ভ্রমণের সময় সুদীপ্ত পাল (৩৫) নামে এক ভারতীয় নাগরিক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি নদীপথে কোন থানার সীমানায় হয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়ায় মামলা নিচ্ছেনা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার সময় এ ঘটনা ঘটেছে।

এসময় সুদীপ্ত পালের সঙ্গে তার পরিচিত চট্টগ্রামের তিন যুবক ছিলেন। এরা হলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাদাব ইয়াছির ও দেবাশীষ বল এবং শিক্ষার্থী ফারাবি।

সাদাব ইয়াছির জানিয়েছেন, ভারতীয় পর্বত‍ারোহী সুদীপ্ত একটি আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছেন। ২০ নভেম্বর থেকে ২২ নভেম্বর ঢাকায় এ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।  চট্টগ্রামভিত্তিক একটি মাউন্টেনার ক্লাবের গাইড হিসেবে কাজ করেছিলেন সুদীপ্ত। সেখানে পরিচয়ের সুবাদে সাদাব, দেবাশীষ ও ফারাবি মিলে তাকে বেড়ানোর জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন।

সাদাব ইয়াছির জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নগরীর অভয়মিত্র ঘাট এলাকা থেকে এক ঘণ্টার জন্য একটি নৌকা ভাড়া করে তারা। নৌকাটি সেখান থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত যাবার পর আবারও অভয়মিত্র ঘাটে ফিরে আসছিল।

অভয়মিত্র ঘাটের কাছাকাছি আসার পর একটি ইঞ্জিন নৌকা এসে তাদের থ‍ামার সংকেত দেয়। এসময় ইঞ্জিন নৌকাটি সুদীপ্তদের বহনকারী নৌকার সঙ্গে ঘেঁষে ভেড়ায়। সেখান থেকে ৪-৫ জন সুদীপ্তদের নৌকায় উঠে তাদের ‍অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে।

এরপর সুদীপ্ত’র কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকার সমপরিমাণ ভারতীয় রুপি, সাদাবের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকাসহ নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং চারটি মোবাইল সেট ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এছাড়া দেবাশীষ বলকে মারধর করে ছিনতাইকারীরা।

খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা থেকে এস আই জাহেদ ঘটনাস্থলে যান এবং চারজনকে কর্ণফুলী থানায় নিয়ে যান। এরপর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত নৌকা উদ্ধার করা হয় এবং এর মালিককে আটক করা হয়। তবে সকালে মালিককে আবার ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

কর্ণফুলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার মালিকের কোন সম্পৃক্ততা পাইনি।  সেজন্য তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর ঘটনাটি আমার এলাকায়ও ঘটেনি। তারপরও আমি খবর পেয়ে পুলিশ অফিসার পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ঘটনাটি আসলে কোতয়ালি থানার।’

রাতেই কর্ণফুলী থানা থেকে চারজনকে কোতয়ালি থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। তারা থানায় এসে মামলা দায়ের করতে চাইলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি ‍জানান বলে অভিযোগ করেছেন সাদাব ইয়াছির। বাধ্য হয়ে তারা মোবাইল হারানোর বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কোতয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন ভারতীয় নাগরিকের ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার কথা শুনে সকালে অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় যান। তিনি বলেন, ‘ফিরিঙ্গিবাজার ব্রিজঘাট এলাকা আমার থানার অধীনে। অভয়মিত্র ঘাট সদরঘাট থানার অধীনে। এরপরও ভারতীয় নাগরিকের যাতে হয়রানি না হয় সেজন্য আমি মিসিং ডায়েরি নিয়েছি। কিন্তু ঘটনা যেহেতু আমার থানা এলাকায় হয়নি, সেজন্য আমি তো মামলা নিতে পারবনা।’

সদরঘাট থানার ওসি মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘অ‍ামার কাছে তো কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ নিয়ে আসলে অবশ্যই মামলা নেব।  তবে অভয়মিত্র ঘাটের পুরো অংশ আমার থানার অধীনে নয়। আর নদীতে ঘটনা হলে সেটার দায়িত্ব তো কর্ণফুলী থানার।’

বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় আইনগত কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্থরা।

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

জন মন্তব্যকারী




Leave a Reply

Inline