‘চতুর সাকার ফাঁসিটাই কঠিন ছিল’

‘চতুর সাকার ফাঁসিটাই কঠিন ছিল’

প্রকাশিত:

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম ডেস্ক ।।

Saka

মানবতাবিরোধী অপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কাযকরে ইতিহাসের দায়মোচন হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, শহীদ পরিবারের সদস্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিপক্ষে আন্দোলনকারী অ্যাক্টিভিস্টরা। একসাথে দুই শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধীর ফাঁসির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তারা আবেগপ্রবণ হয়েছেন এবং পাশাপাশি দেশের মাটিতে সব রাজাকার আল বদর আল শামসের ফাঁসি হবে এই আশাবাদও ব্যক্ত করেন।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম বলেন, চতুর হওয়ায় এই মামলাটিই আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। গ্রেফতারের দিন থেকে ফাঁসির মুহূর্ত পর্যন্ত বিচার বানচালে সবধরনের চেষ্টা সে করেছে। এই ফাঁসির আদেশ কাযকরের আগ মুহূর্তে পরিবারের সবার বঙ্গভবনে চলে যাওয়ার মতো ঘটনাও তারা ঘটিয়েছে।

আরেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরীন আফরোজ বলেন, শুধু  দেশ নয়, মুজাহিদ ও সাকার মতো ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধী ছিল। আজকে শুধু দেশ না দুজনের ফাঁসির মাধ্যমে এ পৃথিবী কলঙ্কমুক্ত হলো।

শহীদ আলতাফ মাহমুদের শাওন মাহমুদ স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, অপেক্ষার প্রহর খুব কষ্টের ছিল।

শহীদ ডা. আলীম চৌধুরীর কন্যা নুজহাত চৌধুরী বলেন, আমরা ক্লিয়ার কাট মানবতাবিরোধী অপরাদের দায়ে ক্লিয়ার কাট ফাঁসি চেয়ে আসছিলাম। আজ ইতিহাসের দায় মোচনের দিন। আমাদের শহীদ পরিবারের যে ক্ষত তা লাঘব হওয়ার নয়। কিন্তু তারপরও যারা এদেশের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের ফাঁসি কার্যকর হতে দেখে স্বস্তি হচ্ছে।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, এটা তো প্রত্যাশিত। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের  পর এই বিচারের আশা আমরা ছেড়েই দিয়েছিলাম কিন্তু এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা,  সাহস ও প্রজ্ঞার কারণে।  এ সময় শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও সুফিয়া কামালের মতো দুই মহীয়সী নারীর কথা স্মরণ করতে চাই। তিনি এ দুই জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসিতে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, আমাদের আরও একটি দাবি আছে। যাদের হত্যা করা হয়েছিল, তারা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমরা চাই, এই  মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারগুলোয় দেওয়া হোক। নানা সময়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, ভাতা বন্ধ করে অপমান করা হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া জরুরি বলেও তিনি জানান। এটা ৭১ এর গণহত্যার শাস্তি হলো, গত ৪৪বছর দম্ভ দেখিয়ে নানাসময়ে ক্ষমতায় থাকার শাস্তিও তাদের পেতে হবে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক হান্নার খান বলেন, জাতি এই দিনের অপেক্ষায় ছিল। তাদের যে অপরাধ তার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন সেটা কার্যকর হওয়ার আমরা সন্তুষ্ট। তিনি আরও বলেন, আমরা এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম কারণ সাকা চৌধুরী মামলার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে নানা বিভ্রান্তি তৈরির  চেষ্টা করেছে। এমনকি রায়ের খসড়া ফাঁস করার মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত ছিল তার পরিবার। আজ এই বিশাল ষড়যন্ত্রের শেষ হলো।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার রায় কার্যকর বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ হয়েছে। তিনি বলেন, এ রায় কার্যকরে মাধ্যমে প্রমাণিত হলো বাংলার মাটিতে রাজাকারের ঠাঁয় নাই, শেষ বিচারে তাদের ফাঁসিতে ঝুলতেই হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রায় হওয়ার পর থেকে গণজাগরণ মঞ্চ তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিল। ইমরান এইচ সরকার বলেন, এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। সুত্র বাংলা ট্রিবিউন

সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর

আমার জন্য দুয়া করো আমি পরকালেও ভালো থাকবো

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

জন মন্তব্যকারী




Leave a Reply

Inline