রাশেদুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
আপডেট: ৫ এপ্রিল ২০১৬ মঙ্গলবার ১৯:০৫ ঘন্টা
চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট হিসেবে বিবেচিত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়ায় অবশ্যই ভালো লাগছে। ভালো যেমন লাগছে তেমননি নিজের বাহিনীর সুনাম রক্ষা আর এই নতুন পদের গুরু দায়িত্বটা এখন আরো বেড়ে গেছে। পাশাপাশি জনগণের আমাকে ঘিরে প্রত্যাশার মাত্রাটাও এখন দ্বিগুণ বৃদ্বি পাবে। তবে আশা করি অতীতের মত ভবিষ্যতেও সকলের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে যাব দেশ ও সমাজের কল্যাণে। অপরাধ দমনে সর্বদা সচেষ্ট থাকব।’
মঙ্গলবার বিকেলে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ট্রেনিংয়ের জন্য চীন সফরে থাকা সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বাবুল আক্তার সিটিজিবার্তাটোয়েন্টিফোরকে এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতির এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকার বাবুল আক্তারের সাথে বিভিন্ন ব্যাচের মোট ৭০ কর্মকর্তাকে এসপি পদে পদোন্নতি দেয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম কামরুল আহছান।
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে তিনবার সর্বোচ্চ পদক অর্জনকারী ও আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার জঙ্গি দমন, মানবপাচার রোধ ও সাইবার ক্রাইম নিয়ে কাজ করে পুলিশ বাহিনীতে বেশ আলোচিত হয়েছেন। নিজ বাহিনীর পাশাপাশি তিনি জনসাধারণের কাছে বেশ পরিচিত। কারো কাছে বাবুল আক্তার স্যার আবার বাবুল ভাই। সেকারণে তিনি যেখানে দায়িত্ব পালন শেষে বদলীর আদেশ নিয়ে বিদায় নিতে গেছেন। সেখানার জনগণ তাকে না ছাড়ার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলেন। যার কারণে অনেকবার তার বদলী আদেশও প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় পুলিশ সদর দপ্তর।
এমনকি গত বছরের ৫ নভেম্বর নগরীর কর্ণফুলী থানার খোয়জনগর এলাকার একটি ভবনের নিচ তলায় জেএমবি আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে তিনি গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান। এরপরও সেখান থেকে আটক করেছেন জেএমবি চট্টগ্রামের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ জাবেদকে। উদ্ধার করেছেন শক্তিশালী নয়টি হ্যান্ড গ্রেনেড, প্রায় ২শ’ রাউন্ড একে ২২ এর গুলি, একটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ছোরা, বিপুল পরিমান বোমা তৈরির সরঞ্জাম, অস্ত্র তৈরির মেশিন ও জিহাদী বই। এছাড়া গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাটহাজারীর আমান বাজারের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে জেএমবি নেতা ফারদিনের বাসা থেকেও বিপুল বিস্ফোরক ও অত্যাধুনিক স্নাইফার রাইফেল উদ্ধার করে আলোছিলেন।
আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে নিয়ে ‘আমাদের গর্ব বাবুল আক্তার’ নামে একটি জনপ্রিয় ফেসবুক ফ্যানপেজও চালু করেছেন তার শুভার্থীরা।
২০০৯ সালের নগরীর টাইগার পাস এলাকায় এক সন্ত্রাসী ধরতে গিয়ে অস্ত্রের মুখোমুখি হওয়ার পর প্রাণের ভয় না করে সেই আসামিকে পাকড়া করতে সক্ষম হওয়া সেই সময়ের তরুন সহকারি পুলিশ কমিশনার বাবুল আক্তারের প্রাপ্তির ভা-ারে যোগ হয়েছিল রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক বা পিপিএম (সাহসিকতা) ২০০৯।
অপরাধ দমনের জন্য পুলিশের সবচেয়ে বেশিবার পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার গত ২০১৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের উত্তর ও দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হিসেবে যোগদান করেন। এরআগেও তিনি গোয়েন্দা পুলিশের এডিসির দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দিতে দক্ষিণ সুদান গিয়েছিলেন বাবুল আক্তার।গত বছরের ১৫ জুলাই তিনি দেশে ফেরার পর তাকে চাহিদাপত্র দিয়ে সিএমপিতে নিয়ে এনেছিলেন পুলিশ কমিশনার।
ঝিনাইদাহের শৈলকূপায় জন্ম নেয়া পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান বাবুল আক্তার পুলিশের ২৪ তম ব্যাচের বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ২০০৫ সালে পুলিশে যোগ দেন। সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে র্যাব-২-এ কর্মজীবন শুর“ করেন। এরপর ২০০৮ সালে নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারি কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে বাবুল আক্তার দীর্ঘদিন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ মিশনে যাবার আগ পর্যন্ত ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) পদে কর্মরত ছিলেন বাবুল আক্তার।
অপরাধ দমনে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পিপিএম (সেবা) (২০০৮), ২০০৯ পিপিএম (সাহসিকতা), ২০১০ সালে আইজিপি ব্যাজ, ২০১১ সালে পুলিশের সর্বো”চ মর্যাদাশীল পুরস্কার বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (সাহসিকতা)। বেসরকারি পর্যায়ে ২০১২ সালে সিঙ্গার-চ্যানেল আই (সাহসিকতা) পুরস্কার লাভ করেছেন বাবুল আক্তার। এর মধ্যে চারবার অর্জন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের সেরা সহকারী পুলিশ সুপারের মর্যাদা।

