শনিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
ডেস্ক সংবাদ : হাতির লোকালয়ে নেমে আসা ঠেকাতে অভিনব কৌশল আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ইনফ্রাসাউন্ডের পাশাপাশি ভূকম্পনের সৃষ্টি করা হলে এই প্রাণীটি ভয় পাবে।
আমরা প্রায়শই শুনে থাকি যে হাতি পাহাড় বা জঙ্গল থেকে জনপদে নেমে এসেছে। তারপর আক্রমণ চালিয়েছে মানুষের বাড়িঘরে। হাতির হামলায় মানুষের প্রাণহানির খবরও শোনা যায়।
নানা উপায়ে এই হাতিকে তাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এখন বিজ্ঞানীরা নতুন একটি কৌশল নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। ভেবে দেখছেন, মাটির নিচের তরঙ্গ সৃষ্টির মাধ্যমে কি হাতির চলে আসাকে ঠেকানো সম্ভব?
হাতিকে তাড়াতে সাধারণত যেসব কৌশল গ্রহণ করা হয় তার একটি হচ্ছে মৃদু তরঙ্গের শব্দ সৃষ্টি করে বিপদ সঙ্কেতের মতো বাজানো।

কিন্তু এটা যে খুব বেশি সফল হয়েছে সেটাও হলফ করে বলা যাবে না। এখন বিজ্ঞানীরা ভেবে দেখছেন, এই শব্দ যদি বাতাসের পাশাপাশি মাটির নিচে হাতির পায়ের তলাতেও ঢুকিয়ে দেওয়া যায় তাহলে এর ফলাফল কি হতে পারে!
জোহানেসবার্গে উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সু ওয়েবের নেতৃত্বে এবিষয়ে একটি গবেষণা চলছে। তিনি বলছেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য একটাই- মানুষ ও হাতি – এই দুটো প্রাণীকেই নিরাপদে রাখা।
“হাতি খুবই ধ্বংসাত্মক, সবকিছু ধ্বংস করে ফেলতে পারে। বিশেষ করে তছনছ করে দিতে পারে কৃষকের জমির ফসল। হাতি প্রায়শই সমতলে মানুষের জমিতে নেমে আসে, তারপর শস্য খেয়ে ফেলে। বাড়িঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এবং কখনও কখনও মানুষকেও হত্যা করে। আফ্রিকার গ্রামীণ জীবনে এটা খুব বড়ো সমস্যা। এসব এলাকায় লোকজন হাতিকে তাড়ানোর নানা উপায় বেছে নিয়েছে।”
এরকম একটি উপায় হচ্ছে- শস্যক্ষেত্রের পাশেই মৌমাছির একটি চাক রেখে দেওয়া। আর সাম্প্রতিক কালে খুব বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে এরকম আরেকটি উপায় – ইনফ্রাসাউন্ড। অর্থাৎ এমন মৃদু তরঙ্গে শব্দ সৃষ্টি করা যা মানুষ শুনতে পাবে না কিন্তু হাতির কানে সেটা বিকট আওয়াজের সৃষ্টি করবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শব্দ অনেক দূর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারে। ফলে ইনফ্রাসাউন্ড হাতিকে লোকালয় থেকে অনেক দূর পর্যন্ত তাড়িয়ে নিতে পারে। তবে সমস্যা একটা আছে।
“সমস্যা হলো হাতি অত্যন্ত চালাক একটি প্রাণী। এরা খুব সহজেই বুঝে ফেলে কোনটা আসল আর কোনটা নকল। এখন আপনি যদি সাদামাঠা ইনফ্রাসাউন্ড তৈরি করেন তাহলে হাতি ঠিকই বুঝে যাবে যে এটা আসলে বিপদের কিছু নয়। এবং এতে তাদের ভয় পাওয়ারও কিছু নেই।”
সু ওয়েবের মতো বিজ্ঞানীদের ধারণা, বায়ু এবং মাটি – এই দুটো মাধ্যমের ভেতর দিয়েই হাতিরা একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ থাকে।
তারা বলছেন, ইনফ্রাসাউন্ড শোনার পরেও হাতি যখন মাটিতে কোনো ধরনের ভূকম্পন দেখতে পায় না তখন হয়তো তারা জেনে ফেলে যে এটা নকল কিছু, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
আর এই বিষয়টিই নিয়েই পরীক্ষা চালাচ্ছেন প্রফেসর ওয়েব। এই কাজে তিনি ব্যবহার করছেন প্রশিক্ষিত কিছু হাতিকে।

তার নেতৃত্বে বিজ্ঞানীদের দলটি মাটির নিচে জিওফোনের সাহায্যে শব্দ তরঙ্গের সৃষ্টি করে হাতির ওপর তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেছেন।
তারা বলছেন, এই পদ্ধতি কতোটা কার্যকর হবে সেটা এখনও বলার সময় আসেনি। তবে ইতোমধ্যেই এটা স্পষ্ট যে এই সঙ্কেত খুব জোরালো এবং এটা বহু দূর পর্যন্ত যেতে পারে। একইসাথে এই কাজটা খুব সহজেই এবং যেকোনো জায়গাতেই করা সম্ভব। এজন্যে শুধু একটি স্পিকারের প্রয়োজন।
