সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব গোলাম রাব্বিকে মধ্যরাতে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা পরবর্তী নিজেকে বাঁচাতে ফেসবুকের আশ্রয় নিয়েছেন এসআই মাসুদ শিকদার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব গোলাম রাব্বিকে মধ্যরাতে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা পরবর্তী নিজেকে বাঁচাতে ফেসবুকের আশ্রয় নিয়েছেন এসআই মাসুদ শিকদার। এ মুহূর্তে এ ছাড়া কোন বিকল্পও খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। ফেসবুকের কয়েকটি নামে-বেনামের আইডি থেকে মাসুদের টাইমলাইনে ও স্ট্যাটাসের নিচে মাসুদকে নির্দোষ প্রমাণ করতে স্ট্যাটাস পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টের নিচে আবার মাসুদের পক্ষে নানান ইতিবাচক সাফাই গাইতে দেখা গেছে।
ফেসবুকে এসআই মাসুদ শিকদারের (https://www.facebook.com/mdmasud.sikder2) টাইমলাইনে গিয়ে দেখা গেছে তাঁর পক্ষে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নাজিম আহমেদ। তিনি লিখেছেন, “মাসুদ ভাইকে নিয়ে ঘৃণ্য মিথ্যাচার এবং হলুদ সাংবাদিকতার তীব্র নিন্দা এবং ঘৃণা জানানোর পাশাপাশি প্রতিবাদ ও জানাইলাম। প্রথমেই বলে রাখতে চাই প্রায় দেড় বছর আগে যুবদলের মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দেয়ার পরেই মোহাম্মদপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মাসুদ শিকদার ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় এবং সেজন্যই আমার ওয়ালে এবং ‘ট্রু গ্রুপের এডমিন থাকার সময়ে’ গ্রুপের ওয়ালে মাসুদ ভাইকে নিয়ে পোষ্ট দেই প্রশংসা করে। আর সেজন্যই মূলত অনলাইন মুজিব সেনাদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেন মাসুদ ভাই”।
তিনি “মূল কথা” সাব হেড দিয়ে আবার লিখেছেন, “মোহাম্মদপুর থানাধীন মাদকের আখড়া খ্যাত জেনেভা ক্যাম্পের গেইট থেকে ”সময়” টিভিতে কাজ করতো একটা সময়ে এবং এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরিরত গোলাম রাব্বী নামের কাউকে রাত আনুমানিক ১২টার সময়ে মাসুদ এবং ডিউটিতে থাকা অন্যান্য পুলিশ ভাইরা আটক করে দেহ তল্লাশি করতে চাইলে, তল্লাশি করতে দেবেনা মর্মে সে বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করাসহ মাসুদ ভাইকে ফাঁসিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। আর তাই শেষ পর্যন্ত মাসুদ ভাইয়ের উপরে মোটা অংকের ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ এনে মানহানি তো করেছেই, পরন্তু তার ফাঁসিয়ে দেবে হুমকির বাস্তবায়ন মূলক হুমকিটার বাস্তব রূপ দিতে একটা সময়ে ”সময়” টিভিতে কাজ করার সুযোগটা কাজে লাগিয়ে হলুদ মিডিয়ার সহায়তায় মোটা অংকের চাঁদা চাওয়ার মিথ্যে অভিযোগ এনে মাসুদ ভাইকে চাকরীচ্যুতও করতে চাইছে। তাই এহেন হলুদ মিডিয়ার জঘন্যতম কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা এবং ঘৃণা জানানোর পাশাপাশি প্রতিবাদ ও জানাইলাম”। স্ট্যাটাসদাতা সব শেষে “মন্তব্য” শিরোনামে লিখেছেন, “মোহাম্মদপুর থানায় খোঁজ-খবর নিয়ে যতটুকু জানতে পারলাম তা হলো, গোলাম রাব্বী কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি যে, তাকে পুলিশ মারধর করেছে কিংবা মোটা অংকের চাঁদাও চেয়েছে। কিন্তু তারপরেও একটা সময়ে ”সময়” টিভিতে এবং এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করার সুবাদে সে মাসুদ ভাইয়ের নামে চাঁদাবাজি এবং মারধরের নামে মিথ্যাচার করেই চলেছে তার বন্ধু তানভীরের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়ার পরেও।
উল্লেখ্য, দেহ তল্লাশির জন্য আটক করতেই যেহেতু পুলিশ তাকে আটক করেছিলো, তাই তাকে ছেড়েও দিয়েছে। কিন্তু তারপরে সে মিথ্যাচার করেই চলেছে হলুদ মিডিয়ার সহায়তায়। তবে #মাসুদ_ভাই_কে বলতে চাই হলুদ সাংবাদিকদেরকে ভয় পাবেন না। কারণ আমরা আপনার পাশে আছি। তাই সত্যের পথে এগিয়ে যান আগের মতোই। তবে মাদকের আখড়া খ্যাত জেনেভা ক্যাম্প এলাকা থেকে রাত ১২টার সময় যে কাউকেই আটক করলে নগদেই উত্তম-মধ্যমটা দিয়ে দেয়ার পরামর্শ রইলো। কারণ মাদকের আখড়া খ্যাত কোনো এলাকাতেই রাত ১২ টায় মসজিদের ইমাম বা মন্দির কিংবা গির্জার কোনো ধর্মীয় যাজকরা যায়না, যায় চোর-চুট্রা, গাঞ্জুড়ি মধুড়ি, হেরোইনখোরসহ মাদকাসক্তরা। সুতরাং রাত ১২টাই শুধু না, তার আগেও কাউরে সন্দেহ হলে নগদেই পিডাইলবেন। কেনোনা গোলাম রাব্বীরে না পিঠানোতেই সে এহেন জঘন্য মূলক মিথ্যাচার করার সুযোগটা পাইছে। কারণ মাইরের উপরে ঔষধ নাই টা সকলেরই জানা কথা। পরিশেষে আপনার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি”।
তাঁর এই স্ট্যাটাসের নিচে ‘গরিবকে আমি ভালবাসি’ নামের একজন লিখেছেন, “উনাকে কেন যেন খুব ভাল পুলিশ মনে হচ্ছে”। ‘অছেক বিল্লাহ শামীম’ নামের একজন লিখেছেন, “মাসুদ ভাইয়ের উপর মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করছি। রাত বারটার সময় মাদকের আখড়ায় কেন রাব্বানী? নাজিম ভাই আপনাকে ধন্যবাদ সত্য তুলে দরার জন্য”। কাজী লাবিব লিখেছেন, “চোর ধরা পরলে কি কান্নাটাই না চোর কাঁদে – তাই না ভাই। মিয়ারা মাদক ব্যবসার সাঙ্গোপাঙ্গদের পক্ষে সাফাই গাইতে আসেন”।
শফিকুল ইসলাম সেলিম নামের একজন একই সূরে লিখেছেন, “পরস্পর যতটুকু জানতে পারলাম,,রাত অনুমান ১২ ঘটিকার সময়,, ঢাকা শহরের অন্যতম মাদকের আখড়া হিসাবে পরিচিত মোহাম্মদপুর থানাধীন জেনেভা ক্যাম্পের গেইটে গোলাম রাব্বী নামক ব্যক্তিকে পাইয়া পুলিশ তার দেহ তল্লাশী করিতে চাইলে,,,রাব্বী দেহ তল্লাশী করিতে দিবেনা মর্মে উপরোক্তর পুলিশকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখায়,,,এখন প্রশ্ন হলো রাব্বী কেন পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান করিলেন?,,আর কেনইবা এত গভীর রাতে মাদকের আস্তানা খ্যাত এলাকায় আসলেন? এবং কেনইবা দেহতল্লাশী করিতে বাধা প্রদান করিলেন? আমি মিডিয়ার সৃষ্টি এমন হীন জঘন্য ন্যাকারজনক কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি,,,এবং আসল অপরাধীর সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি”।
শেখ ফরিদ জুলহাস লিখেছেন, “বাংলাদেশের সৎ, নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার হিসাবে অনেক আগেই মাসুদ ভাইয়ের একটা সুপরিচিতি রয়েছে,,,একটা মাদকের আখড়ায় রাত ১২টায় ভাল কোন মানুষ যায়না,,,সুতরাং গোলাম রাব্বী,, দয়াকরে আপনার এহেন, ঘৃণ্য, নাটক বন্ধ করুন,,,,,আপনার চোখে জল দেখলাম,,,কিন্তু আপনার শরীরে কোথায় পুলিশ আঘাত করেছে, এটাতো দেখালেন না”? এছাড়া ছবির নিচে মাসুদের নানান সময়ে ওঠা ছবি প্রকাশ করা হয়। কেউ ছবি দিয়ে লিখেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাহেবের সাথে মাসুদ ভাই। আবার কেউ লিখেছেন, হাজারী বাগ থানা যুবলীগের সভাপতি স্বাধীন ভাইয়ের সাথে মাসুদ ভাই। আরেকজন লিখেছেন, ফুলবাড়িয়া থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাড. রাজ্জাক স্যারের সাথে

