সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম : গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর সদর ঘাটের বাংলাবাজারে ছিনতাইয়ের সময় তিনজন নিহতের ঘটনায় নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার জেএমবির সদস্য নুরুন নবী ওরফে রাজু (৩০)দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরীন আক্তার কাকনের আদালতে তিনি এ জবানবন্দি প্রদাণ করেন। বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পযর্ন্ত জবানবন্দি আদায় শেষে আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
এরআগের ১০ জানুয়ারি গভীর রাত তিনটার দিকে তাকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার সুলতানপুর এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার রাজু নোয়াখালীর কোম্পানি গঞ্জের চরএলাহী এলাকার বাসিন্দা।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউসন) কাজী মুত্তাকি ইবনু মিনান সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘সদরঘাট থানায় ছিনতাই মামলায় নিজের সম্পৃক্তার দায় স্বীকার করে রাজু জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই দিন তিনি মূলত ছিনতাইকাজে অংশ গ্রহণকারীদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি জানিয়েছেন। জনতার হাতে ধরা পড়ার পর গ্রেনেড বিস্ফোরণ, পালিয়ে যাওয়া সহ সব কিছুরই তার ছয় পৃষ্টার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। তারা পালিয়ে কীভাবে ফেনী হয়ে কুমিল্লার বিশ্বরোডে তাদের মাইক্রোবাসটি মেরামতের জন্য দেয়। এরপর থেকে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন সবই জবানবন্দিতে বলেছেন।’
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেয় বলে জানান মিনান।
এরআগে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার বলেছিলেন,‘ ‘সদরঘাটে ছিনতাই কাজে যে আটজন সরাসরি অংশ নিয়েছিল তার মধ্যে এই রাজুও ছিল। মোটর সাইকেল চালিয়ে জেএমবি নেতা ফারদিন ওরফে নোমানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিল রাজুই। পরে রাজু তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি নিয়ে কুমিল্লায় পালিয়ে গিয়েছিল। সেই দিনের অপারেশন ও জেএমবির তহবিল সংগ্রহ নিয়ে রাজু অনেক তথ্যই দিয়েছে।’
জেএমবি সদস্য রাজুকে সদরঘাটের অস্ত্র, ছিনতাই ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তাকে স্বীকারোক্তি প্রদানের জন্য সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠায় গোয়েন্দা পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর সদর ঘাটের বাংলাবাজারে ছিনতাইয়ের সময় একটি পানীয় বিপণন প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট সত্য গোপালকে গুলি করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার সময় নিজেদের ছুড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণে দুই ছিনতাইকারীসহ সত্য গোপাল নিহত হন। পরে এঘটনার তদন্তে নেমে একাজে জেএমবির সম্পৃক্ততা পায় ডিবি।
এঘটনায় নিহত দুই ছিনতাইকারীই জেএমবি সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর নগরীর কর্ণফুলী থানার খোঁয়াজনগর এলাকায় জেএমবির আস্তানায় অভিযান চালান। সেখান থেকে আটটি হ্যান্ডগ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ জেএমবি’র সামরিক প্রধান জাবেদসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করেছেন শক্তিশালী নয়টি হ্যান্ড গ্রেনেড, প্রায় ২শ’ রাউন্ড একে ২২ এর গুলি, একটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ছোরা, বিপুল পরিমান বোমা তৈরির সরঞ্জাম, অস্ত্র তৈরির মেশিন ও জিহাদী বই।
তারই সূত্র ধরে গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে হাটহাজারী থানার আমানবাজারের হাজি ইসহাক ম্যানশনে অভিযান চালিয়ে জেএমবির সামরিক কমাণ্ডার ফারদিনের আস্তানার সন্ধান লাভ করেন। সেখান থেকে ফারদিননকে আটক করতে না পারলেও উদ্ধার করা হয় একটি অত্যাধুনিক রাইফেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, সেনাবাহিনীর পোশাসক, রাংক ব্যাজ, নেম প্লেটসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর নথিপত্র। এরআগে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয় ফারদিনের সহযোগি জেএমবির তিন সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যিালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তিন ছাত্রকে।


