রনিয়া রহিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
গতকাল সুপারহিরো হওয়ার কথা লিখেছিলাম, আর রক্ত দিয়ে কারো জীবন বাঁচানোর মতো ‘সহজ’ সুপারহিরো পন্থা আর কি আছে?
“আমার মহা দুঃখ আমি এই অতীব সহজ কাজটা করতে পারি না! আমেরিকান ডাক্তার নার্সরা আমার হাতে বহুত গুঁতো দিয়েও নাকি সুঁই ঢোকানোর মতো কোন শিরা খুঁজে পাননা! আর আমার নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে না পড়লে নিজে থেকে তাঁরা আমাকে নিয়ে এই ‘ঝুঁকি’টুকু নিতে নারাজ! ” -_-
ফেসবুকে অনেক সহৃদয় ব্যক্তি রক্তদানের আয়োজন করেন, এবং প্রত্যেক রোজার মাসে এই নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন। রোজা রেখে রক্ত দেয়া যাবে কি যাবে না? রোজা কি ভাঙবে নাকি ভাঙবে না? শরীর সেটা সহ্য করতে পারবে নাকি পারবে না?
প্রথমত, আমি ডাক্তার নই, শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উপদেশ দেয়ার মতো যোগ্যতা নেই আমার। রক্তদান নিয়ে সাধারণত যেটা বলা হয়, সেটুকু জানি, যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে বলা হয় আগে আর পরে। একদম খালি পেটে রক্তদানে নিরুৎসাহিতও করা হয়। – তাহলে কি রোজা রেখে আপনি রক্ত দিতে পারবেন না? কেউ কেউ বলে, তাদের কোন সমস্যা হয়নি। তাই এই ব্যাপারটি আপনার নিজস্ব ভালোমন্দের ধারণা আর আপনার ডাক্তারের উপর ছেড়ে দিচ্ছি।
দ্বিতীয়, ইসলামী দিক থেকে, আমি কোন মুফতিও নই; – এই বিষয়টা নিয়ে আমি পড়ে যেটুকু জেনেছি, সেটা জানাচ্ছি। মূলভাবনা হলো, রোজা রেখে আপনার যেন কোন ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার উদ্দেশ্যেই কিছু নিয়ম আছে। যেমন, আপনি অসুস্থ বা আপনার শারীরিক কোন সমস্যা আছে। কিংবা মেয়েদের মাসিকের বেলায়, যেসময় প্রচুর পানি খাওয়ার দরকার পড়ে। আপনি তখন রোজা রাখা থেকে মুক্ত, যেন আপনার নিজের খেয়াল আপনি রাখতে পারেন (আর পরে আপনার সুবিধামত সময়ে আপনি মিস হয়ে যাওয়া রোজাগুলো রেখে পুষিয়ে দেবেন)। সেরকম, আপনার শরীর থেকে যদি প্রচুর পরিমাণে রক্ত যায় আপনি রক্ত দিলে, আপনার শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে আপনি যদি তখন কিছু না খান বা পর্যাপ্ত পানি না পান করেন। ঠিক একই কারণগুলো যা মেডিক্যাল উপদেশে থাকে।
– যদি রক্তপরীক্ষা’র কারণে অল্প পরিমাণে রক্ত নেয়া লাগে আপনার শরীর থেকে, তাহলে রোজা ভাঙবে না। কিন্তু যদি – রক্তদানের বেলায় যেটা হয় – বেশি পরিমাণে রক্ত চলে যায়, তাহলে রোজা ভাঙবে।
মূল প্রশ্ন তাহলে: রোজা রেখে আপনি রক্ত দেবেন কি দেবেন না? – ইসলামী মতে, যদি কোন মানবজীবন বিপন্ন হয় আপনার রক্ত না দেয়ার কারণে, যদি ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করাটা বেশি দেরী হয়ে যায়, তাহলে আপনি অবশ্যই রক্ত দেবেন! আপনি পরে সেই রোজাটা আরেকদিন রেখে পুষিয়ে দেবেন, তাতে আপনার কোন পাপ হবে না। আর যারা যারা মনে করেন রোজা রেখে রক্তদানে রোজা ভাঙ্গে না, তবে তো হলোই; আমি যেটুকু জেনেছি জানালাম, আশা করি বাকিটুকু ‘নিয়তগুণে বরকত’।
পবিত্র কুর’আনে রোজা সম্পর্কিত আয়াতে এই কথাটি বলা আছে: “আল্লাহ চান তোমাদের জন্য সহজ হোক, তিনি কোন কিছু কঠিন হোক, তা চান না” (সুরাহ ২: আয়াত ১৮৫)। – যেখানে একজন মানুষের জীবন বিপন্ন আর আপনার রক্তদান কারো জীবনকে সহজ আর রক্ষা করতেই পারে, আমরা সেই ব্যাপারেও নাহয় এই আয়াতটি খেয়ালে রাখি, অযথা নিজের বা পরের জন্য কোন কিছু কঠিন না করে ফেলি!
রনিয়া রহিম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গঠনমূলক এবং সুখপাঠ্য লেখার জন্য সুপরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সত্য গল্প সংগ্রহ এবং সংরক্ষনে তার নেয়া উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

