শনিবার,১৭ অক্টোবর ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
ডেস্ক রিপোর্ট ঃ এবার পূর্ণাঙ্গ অনলাইনে আসছে সরকারি স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়াও। এ বছর থেকে নগরীর নয়টি সরকারি স্কুলে এ প্রক্রিয়াতেই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সর্ব প্রথম চট্টগ্রামেই এ প্রক্রিয় চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম জেলাপ্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘সারাদেশে আমরাই প্রথম এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর কোথাও করুক, না করুক; এবার আমরা পুরোটাই অনলাইনেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবো। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমবে।’
এদিকে, অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য ইতোমধ্যে সিস্টেমও (সফটওয়্যার) প্রস্তুত হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর ফলে আগের মতো সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকে ভর্তি ফরম সংগ্রহ ও তা পূরণ করে জমাদানের প্রয়োজন পড়বে না।
জেলাপ্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী– বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নগরীর নয়টি সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রক্রিয়া : জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে– অনলাইনেই (জেলাপ্রশাসনের ওয়েবসাইট–ষষষ.ডদর্র্ধটথমভথ.থমশ.ঠঢ) এ আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। ফরম পূরণের সময় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বা অভিভাবকের একটি মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। যথাযথ ভাবে ফরম পূরণ সম্পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস (বার্তা) যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর অ্যাপ্লিকেশন আইডি দেয়া থাকবে। এই অ্যাপ্লিকেশন আইডি ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি জমা দিতে হবে। ফি জমাদান নিশ্চিত হলে আর একটি এসএমএস–এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর জানিয়ে দেয়া হবে। এই রোল নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর প্রদান করে পরবর্তীতে ওয়েবাসইট থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার একদিন আগে সর্বশেষ আর একটি এসএমএস যাবে পরীক্ষার্থীর মোবাইলে। এতে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্র এবং কক্ষ নম্বর উল্লেখ করা থাকবে।
শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে নিয়মের পরিবর্তন: এবার থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নিয়মের কিছুটা পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) মো. দৌলতুজ্জমান খাঁন। তিনি জানান, কে কোন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন শিক্ষকরা তা কেবল পরীক্ষার আগের রাতেই জানতে পারবেন। এর আগে নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের মোবাইলে এসএমএস–এর মাধ্যমে পরীক্ষার আগের রাতে তা জানিয়ে দেয়া হবে। তবে কে কোন কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন শিক্ষকরা তা জানার সুযোগ পাবেন পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে। অনিয়ম রোধ করতে এবং আরো বেশি স্বচ্ছতা আনতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
আবেদন ফি : প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়া চালু হলেও আবেদন ফি থাকছে আগের মতোই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলাপ্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আবেদন ‘ফি’ আগের মতোই থাকবে। বাড়ার সম্ভাবনা নেই।’ উল্লেখ্য, গতবার ভর্তি ফরমের মূল্য রাখা হয় ১৫০ টাকা।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অধীনে নগরীর ৯টি সরকারি স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। এ স্কুলগুলো হলো– কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং হাজী মুহাম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
এই নয় স্কুলে গতবার মোট ৩ হাজার ৫৭৪টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে ১ হাজার ৯৬০, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৬৪৭, সপ্তম শ্রেণিতে ১৮৩, অষ্টম শ্রেণিতে ১২৯ এবং নবম শ্রেণিতে ৬৫৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। অবশ্য, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সবকয়টি স্কুলে সব শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয় না।
জেলাপ্রশাসন সূত্র জানিয়েছে– পঞ্চম শ্রেণির আসন সংখ্যা এবারও একই থাকবে। তবে অন্যান্য শ্রেণিগুলোর ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা কিছুটা হের–ফের হতে পারে। কারণ এসব শ্রেণিতে শূন্য আসনের ভিত্তিতেই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। আর শ্রেণিগুলোতে আসন শূন্য হওয়ার হার প্রতি বছর এক রকম নয়।
অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আজাদীকে বলেন, এখন যেহেতু সবকিছুই অনলাইনে হচ্ছে, তাই আমরা গতবারও চেয়েছিলাম– ভর্তির প্রক্রিয়াটাও অনলাইনে হোক। কিন্তু আগ্রহ ও প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও গতবার তা চালু করা সম্ভব হয়নি। এবার থেকে শুরু করছি। এর মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া আরো সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। অন্যদিকে, একই শ্রেণিতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. দৌলতুজ্জমান খাঁন বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সম্মিলিত মেধাক্রম ও পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্ধারিত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কোন ধরনের অনিয়মের সুযোগ রাখা হবেনা।
সূত্র ঃ দৈনিক আজাদি