বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
বিনোদন ডেস্ক ঃ ভারতের মুম্বাইয়ে শিনা বোরা হত্যাকাণ্ডে প্রতিদিনই উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে বুধবার গভীর রাতে মুম্বাই পুলিশের একটি দল পিটার মুখোপাধ্যায়ের ছেলে রাহুল মুখোপাধ্যায়কে জেরা করে। রাহুল জেরায় জানিয়েছেন, খুনের কয়েকদিন পরে শিনার নাম করে একটি এসএমএস পেয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল শিনাকে খুন করা হয়েছিল বলে জেরায় স্বীকার করেছেন তার মা ইন্দ্রাণী। আর এর কয়েক দিন পরেই রাহুলের ফোনে ওই এসএমএস আসে বলে জানিয়েছেন রাহুল। কলকাতাভিত্তক সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ শিনা হত্যার এ তথ্য তুলে ধরেছে।
শিনার নামে আসা ওই এসএমএসে লেখা ছিল তিনি রাহুলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতে চান না। কে ওই এসএমএস করেছিল সেবিষয় কোনও উত্তর দিতে পারেননি রাহুল। সূত্রের তরফে জানা গেছে এই রাহুলের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল শিনার। সেই সম্পর্কই পছন্দ করতেন না ইন্দ্রাণী। পুলিশ সূত্রে খবর মুম্বই আসার পর রাহুল-শিনার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
এদিকে এরমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইন্দ্রাণী ছাড়াও তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী সঞ্জীব খন্নাকে গতকাল কলকাতা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলায় ইন্দ্রাণীর ল্যাপটপ, মোবাইল এবং পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, রায়গড়ের জঙ্গলে গিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের পুনর্নিমাণও করবে পুলিশের একটি দল।
শিনা বোরা হত্যাকাণ্ডে ধৃত সঞ্জীব খন্নাকে আজ আলিপুর আদালতে তোলা হবে। সঞ্জীব খন্নাকে ট্রানজিট রিমান্ডে পেতে আবেদন জানাবে মুম্বাই পুলিশ। মুম্বাই পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়ার পর পিটার মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী ইন্দ্রাণী দাবি করেন, শিনা বোরাকে খুনের ঘটনায় তিনি একা জড়িত নন। জড়িত তার প্রাক্তন স্বামী সঞ্জীব খন্নাও। তার প্রেক্ষিতেই গতকাল কলকাতায় আসে মুম্বাই পুলিশের একটি দল। এর আগে ২০১২ সালে সৎ বোন শীনা বোরাকে খুনের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয় পিটারের স্ত্রী ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় ও তার গাড়িচালককে। কিন্তু, জেরায় ইন্দ্রাণী যা জানান, তাতে তদন্তকারীদের চোখ কপালে উঠে যাওয়ার জোগাড়! জেরায় ইন্দ্রাণী স্বীকার করেন যে শীনা তার বোন-ই নয়। ইন্দ্রাণী জানান, শীনা ছিল তাঁর প্রথম পক্ষের মেয়ে। ইন্দ্রাণী যে মিথ্যে কথা বলছেন না, এদিন ইন্দ্রাণীর প্রথম পক্ষের ছেলে তথা নিহতের ছোট ভাই মিখাইল বোরার কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
২০১২ সালে নিখোঁজ হন শীনা বোরা। পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্তে নেমে মুম্বাইয়ের পাশে রায়গড় জেলার একটি ফার্ম হাউস থেকে শীনার দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শীনাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে পুড়িয়ে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তার গাড়ির চালককে। জেরায় সে স্বীকার করে, ইন্দ্রাণীর কথাতেই সে এই কাজ করেছে। বয়ানের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সেই ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। সূত্র: এবিপি আনন্দ
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper