রবিবার,২৫ অক্টোবর ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : বাংলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৮৬তম জন্ম-জয়ন্তী ছিলো ২৩ অক্টোবর ২০১৫। ১৯২৯ সালে তিনি রাজধানী ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। কবির ৮৬তম জন্ম-জয়ন্তী উপলক্ষে কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর ৩৫৭তম পাক্ষিক সাহিত্য সভায় কবির জীবনালেক্ষ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহম্মদ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কবি রুহুল কাদের বাবুলের সঞ্চালনায় ২৩ অক্টোবর ২০১৫ বিকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় একাডেমীর স্থায়ী পরিষদ সদস্য কবি আদিল চৌধুরী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, কবি শামসুর রাহমান ছিলেন দেশের প্রধান কবি। কবি শামসুর রাহমান অনেক কবিতা লিখেছেন কিন্তু তিনি ‘স্বাধীনতা’ ও ‘তোমার জন্য হে স্বাধীনতা’ কবিতার জন্য বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবেন। এই অসাধারণ কবিতার স্রষ্টা কবি শামসুর রাহমান। তিনি আজতক বাংলাদেশের প্রধানতম কবিদের একজন।
বক্তাগণ বলেন, কবি শামসুর রাহমান একটি বিশিষ্ট ধারার ভেতর সাহিত্য চর্চা করেছেন; এবং সেই ধারা তাঁর মৌলিক অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি তার নিজস্ব কাব্যভাষা তৈরি করে নিয়েছিলেন। এই জনপদের শহর, প্রকৃতি, ইতিহাস সর্বোপরি মনে-প্রাণে বাঙলা-বাঙালির কথা বারবার তাঁর কবিতায় ফুঁটে উঠেছে ।
গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শুরুতে তিনি যখন কাব্যচর্চা শুরু করেন তখন বাঙলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর নানা ধরণের রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন-নিষ্পেষণ চলছিল। বাঙলা সাহিত্যের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে খণ্ডিতকরণ, ভাষার বিকৃতিসাধন, রবীন্দ্রনাথ তথা গোটা রবীন্দ্র সাহিত্যকে বর্জন করা থেকে নজরুল সাহিত্যকে সংশোধন, এমনকি বাঙলা বর্ণমালা বদলে ফেলার কদর্য তৎপরতা চলছিল। যেমন- ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।’ “অগত্য” নাম্নী পত্রিকায় ‘তমুদ্দনি বাঙলা ভাষায়’ এই কবিতার ভার্সন ছাপা হল এইভাবে … “ফজরে উঠিয়া আমি দিলে দিলে বলি, হররোজ আমি যেন আচ্ছা হয়ে চলি।” বাঙালিরা তখন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এর প্রতিবাদ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আর এই সাংস্কৃতিক- সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সাহসী বীর, সংগ্রামী-সারথি ছিলেন আমাদের কবি শামসুর রাহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কবির জীবনালেক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন যথাক্রমে প্রবীণ আইনজীবী ও একাডেমীর জীবন সদস্য শামসুল আলম কুতুবী, একাডেমীর স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান কবি সুলতান আহমদ, একাডেমীর স্থায়ী পরিষদের সদস্য গবেষক নুরুল আজিজ চৌধুরী, একাডেমীর স্থায়ী পরিষদের সদস্য কবি দিলওয়ার চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি হাজী আবুল কালাম কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হাসান আহমদ সোবহানী, কক্সবাজার ইসলামী আদর্শ কামিল মাদরাসার আরবী বিভাগের প্রভাষক ড. মুহম্মাদ নুরুল আবসার ও একাডেমীর সদস্য বেলাল-উল-ইসলাম সাগর।
কবি স্বরচিত ও কবির কবিতা পাঠ করেন নূরুল আলম হেলালী, বেলাল-উল-ইসলাম সাগর, জহির ইসলাম ও হাসন রাজা।
আগামী ৬ নভেম্বর ২০১৫ রোজ শুক্রবার বিকাল ৪টায় একাডেমীর ৩৫৮তম পাক্ষিক সাহিত্য সভা কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত আসরে কক্সবাজারের প্রবীণ কবি, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্য একাডেমীর জীবন সদস্য প্রফেসর মুফীদুল আলমের সম্প্রতি প্রকাশিত অনুকবিতার বই ‘লখতে খয়াল’-এর উপর আলোচনা করা হবে। উক্ত সাহিত্য সভায় একাডেমীর স্থায়ী পরিষদ, কার্যনির্বাহী পরিষদ, জীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্যবৃন্দ, জেলার কবি-সাহিত্যিক, সাহিত্যামোদি, সাহিত্যানুরাগী ও বুদ্ধিজীবীগণ, প্রফেসর মুফীদুল আলম অনুরাগীদেরকে যথা সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য একাডেমীর সভাপতি সাংবাদিক-গবেষক মুহম্মদ নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কবি রুহুল কাদের বাবুল বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানিয়েছ।











































