সিটিজি বার্তা২৪ ডটকম ডেস্ক
শনিবার, ৩০ জুলাই ২০১৬
ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে শুক্রবার বেলা ১১ টার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমের কাছে জানান, বেলা ১১ টায় সংবাদ সম্মেলন করার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমি বের হতে পারছি না।
এদিকে, রাত পৌনে ১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রিজভী সাহেব এখনও অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, মূলত রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় পুলিশ কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করে। গ্রেফতারি এড়ানোর জন্যই শুক্রবার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান নেন রিজভী।
সূত্রের দাবি, বরাবর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তার সংবাদ সম্মেলনে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলেও শুক্রবার কৌশলে গুলশানে আসেন। দলের চেয়ারপারসনের অনুমতি নিয়ে রিজভী গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সূত্রের ভাষ্য, গুলশান কার্যালয়ে থেকে মূলত রিজভী গ্রেফতার এড়াতে চান। আইনশৃংখলা বাহিনী কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করবে না, এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই শুক্রবার গুলশানে অবস্থান নেন রিজভী।
তবে এবিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের জন্য অনেকবার চেষ্টা করেও (মোবাইল ফোনে) তাকে পাওয়া যায়নি।
গুলশান থানার ডিউটি অফিসার জাহঙ্গীর জানান, রিজভী তার কর্যালয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে এমন কোন তথ্য নেই।
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়ার ডিউটি অফিসার এসআই নাজমুল সিটিজিবার্তা২৪কে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।
রিজভীর সাথে কর্যালয়ে অবরুদ্ধ আছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদ, সেচ্ছাসেবক দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম পটু, সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ও তুষার নামের এক কর্মী।
প্রসঙ্গত, ২৫ জুলাই বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার সকালে ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুহুল আমিন এ পরোয়ানা জারি করেন। রিজভী ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমার ওরফে শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামলা খান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, আজিজুল বারি হেলালসহ ৯জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত বছর ২৭ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের সারাদেশে অবরোধ হরতাল চলাকালে পল্লবী থানাধীন এলাকায় আসামিদের নির্দেশে দুর্বৃত্তরা বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে।
এ ঘটনায় পল্লবী থানা পুলিশ ওই ৯জনসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে। পরবর্তীতে পল্লবী থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে গত ৩ মে ১৭ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।



You must log in to post a comment.