মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ফারিয়া আফরিন ঐশি নামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির দায়ে এক নারীসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে চট্টগ্রামের একটি অাদালত।একই রায়ে নুরুল বশর নামে অভিযুক্ত অপর একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো.রেজাউল করিম চৌধুরী এ রায় দিয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, রহিমা বেগম, রোখসান বেগম, করিম, মামুনুর রশিদ ও জালাল উদ্দিন। এদের মধ্যে মামুনুর রশিদ ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট জেসমিন আক্তার বলেন, ‘চান্দগাঁও থেকে শিশু ঐশিকে অপহরণের পর বাঁশখালী নিয়ে মুক্তিপণ দাবির দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দুই নারীসহ পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ ধারায় অপহরণের দায়ে রোকসানা ও রহিমাকে এবং ৮ ধারায় মুক্তিপণ দাবির দায়ে করিম, মামুন ও জালালকে এই দণ্ড দেয়া হয়। কারাদণ্ড ছাড়াও আসামিদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতেই হবে। এদের মধ্যে রোকসানা জামিনে গিয়ে পলাতক আর মামুনুর রশীদ ছাড়া অন্যরা মামলা দায়েরের পর থেকেই পলাতক রয়েছে।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঐশীকে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ১১০ নম্বর সড়কের নিজ বাসার সামনে থেকে অপহরণ করে বাঁশখালীর খুতুকখালী নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে তার বাবার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এঘটনায় ঐশির বাবা জাহিদ হোসেন চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ২ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর খুতুকখালীতে রহিমার বাড়ি থেকে ঐশিকে উদ্ধার করে। তবে এসময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ২০১৫ সালের ১৪ মে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৮ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অাদালত মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।


You must log in to post a comment.