চট্টগ্রাম কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৩

ctgbarta24.com

নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

সোমবার, ১ আগস্ট ২০১৬

ctg-college-fireing-police-BSL-2group

চট্টগ্রাম কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৩

চট্টগ্রাম ঃ জঙ্গিবাদবিরোধী মিছিল নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছিল ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা। মিছিলকারীরা মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই কলেজের তিন তলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ওপর থেকে চার-পাঁচজন যুবক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া শুরু করে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়।

গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কলেজে পুলিশের উপস্থিতিতে এই গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ তিনজন হলেন, ইসমাইল হোসেন জীবন, মো. বাপ্পা ও ইমাম হোসেন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে জীবনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার পেটে ও পায়ে গুলি লেগেছে।

আহতদের মধ্যে জীবন হলো মহানগর ছাত্রলীগের উপ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। আর বাপ্পা ও ইমাম হলো চকবাজার এলাকার স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী। চকবাজার এলাকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুর অনুসারী তারা।

এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি। গতরাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলাও দায়ের হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার চট্টগ্রাম কলেজের সামনে জঙ্গিবাদবিরোধী মানবন্ধন করে টিনুর অনুসারী নেতাকর্মীরা। এতে চট্টগ্রাম কলেজ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মহসিন কলেজ ও চকবাজার এলাকার স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। তারা ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনকালে হঠাৎ চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিমের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী এসে তাদের বাধা দেয়, ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি লেগে যায়। পরে মানববন্ধনকারীরা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দিকে চলে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রেস ক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে টিনুর অনুসারী নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম কলেজে প্রবেশ করছিল। মিছিলকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই শতাধিক। ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই তাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে দায়িত্বপালনরত গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কলেজের তিন তলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ওপর থেকে চার-পাঁচজন যুবক মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে আরও ২০-২৫ জন নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছিল।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল করিম বলেন, ‘প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ওপরে কারা অবস্থান নিয়েছিল তা আমি জানি না। আর আমরা গুলি ছুঁড়িনি।’

মাহমুদুল করিম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির অনুসারী। রনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। অপরদিকে নুর মোস্তফা টিনু হলেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী।

চট্টগ্রাম কলেজের নুর মোস্তফা টিনুর অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা সুভাষ মল্লিক শুভ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদবিরোধী মিছিল নিয়ে কলেজে প্রবেশ করার সময় অতির্কিতভাবে আমাদের ওপর গুলি ছোঁড়া হয়। পুলিশের সামনেই তারা আমাদের ওপর গুলি ছোঁড়ে। এতে আমাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়।’

জানা গেছে, টিনুর অনুসারীদের সাথে এ জঙ্গিবাদবিরোধী মিছিলে অংশ নেয় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টিনুর অনুসারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ এসে উল্টো মিছিলকারীদের ওপর চড়াও হয়। তাদের লাঠিপেটা করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।

এদিকে পুলিশের তাড়া খেয়ে টিনুর অনুসারীরা কলেজ সড়কে এসে অবস্থান নেয়। তারা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় যান চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিকাল তিনটার দিকে পুলিশ সড়কে অবস্থানরত হামলার শিকার বিক্ষোভকারীদের ওপর ফের লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে পিছু হটে চকবাজারের দিকে চলে যায় বিক্ষোভকারীরা সিএমপির উপ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষের নেতৃত্বে কয়েক প্লাটুন পুলিশ চকবাজার গিয়েও তাদের ধাওয়া দেয়। কলেজের সামনের সড়ক থেকে হামলার শিকার বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর ক্যাম্পাসে অবস্থানরত হামলাকারীদের প্রটোকল দিয়ে পুলিশ বাইরে বের করে নিয়ে আসে।

পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হামলাকারীদের প্রশ্রয় এবং হামলার শিকার নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করা নিয়ে খোদ প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে দায়িত্বপালনকারী গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। পুলিশের ভূমিকার প্রশ্ন তুলেছেন হামলায় আক্রান্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পুলিশের ভূমিকার প্রশ্ন তুলে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘হামলায় আক্রান্ত মিছিলকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলো অথচ হামলাকারী পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিল না। বরঞ্চ হামলাকারী নেতাকর্মীদের প্রটোকল দিয়ে পুলিশ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।’

চকবাজারে টিনুর অনুসারী নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে বিকাল ৪টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নগর পুলিশের উপ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ। তার সাথে ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান।

ডিসি পরিতোষ ঘোষ চকবাজার থানার ওসিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকালে আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম দুই পক্ষের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে। আপনারা তা করলেন না কেনো। আমার কমান্ড শুনেননি কেনো। কার কমান্ড শুনেছেন? এতো ব্যালেন্স করে চলার দরকার কি? ৮-১০ টারে মাইরা জেলে ঢুকাইয়া দিলে তো সব ঠাণ্ডা হয়ে যায়। মারামারি একদিন করলেই হয়।’ তথ্য সূত্র সুপ্রভাত

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ

নগরীর পশ্চিম ফিরোজ শাহ মসজিদ বাচাঁও, পুকুর বাচাঁও  কর্মসুচি পালিত... মাহমুদুল হাসান রাকিব ।  ৩ আগস্ট ২০১৬ চট্টগ্রাম : নগরীর আকবর শাহ্ থানার অন্তর্গত ১৯৬০ সালে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম ফিরোজ শাহ্ কলোনী জামে মসজিদ ও ম...
চট্টগ্রামে নর্থ-সাউথের ছাত্র জুনায়েদ নিখোঁজ... আরাফাত রহমান ।  ২ আগস্ট ২০১৬ চট্টগ্রাম: জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইতিমধ্যে বিতর্কিত দেশের প্রথম সনামধন্য বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকার...
মাদক বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বরিশাল কলোনিতে সংঘর্ষ... রাশেদুল করিম ।  ২ আগস্ট ২০১৬ চট্টগ্রাম: বন্দর নগরীর প্রকাশ্যে 'মাদক' বিক্রির হাট হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকার বরিশাল কলোনিতে 'মাদক ...
গ্রেফতার পাঁচ ‘আনসারুল্লাহ’ সদস্য রিমান্ডে... মাহাবুবুল করিম ।  ২ আগস্ট ২০১৬ চট্টগ্রাম: বন্দর নগরীর পতেঙ্গার কাটগড় মুসলিবাবাদ এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পাঁচ সদস্য যুবককে তি...
মিতু হত্যাকান্ডে ‘অস্ত্রসরবরাহকারী’ ভোলা ফের রিমান্ডে... রাশেদুল করিম ।  ২ আগস্ট ২০১৬ চট্টগ্রাম: সাহসী পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকান্ডের মামলায় গ্রেফতারকৃত অস্ত্রসরবর...



Translate »