শিরোনাম

                                                                                

নিকৃষ্ট বস্তুর প্রশংসা, তুচ্ছ বস্তুর বেশি প্রশংসা যারা করে তারা হল ‘Snob’

ctgbarta24.com

মঙ্গলবার,১৯ জুলাই ২০১৬

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

আর করিম: থ্যাকার ছিলেন ভিক্টোরিয়ান যুগের একজন লেখক। তিনি অনেকটা ভিন্ন মেজাজের ছিলেন তা বুঝা যায় মূলত তার লেখনির মাধ্যমে।

টেনিসন, ফিশটজারেলড প্রভৃতি ছাত্রেরা ছিল তার বন্ধু। তবু তাদের সাথে বন্ধুত্ব তেমন গাড় হয়নি। কারন তিনি নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে রাখতেন নিজের মধ্যে। কারণটা বোধহয় পরিবেশটা তার অপছন্দ ছিল!

থ্যাকার ছিলেন উদার উন্নত হৃদয়ের অধিকারী। জীবনে যা কিছু সত্য, খাঁটি , পবিত্র ও সুন্দর তাকেই তিনি ভালবেসেছেন। ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা, সংকীর্ণতা ও সাত্তপরতাকে তিনি মনে প্রানে ঘৃনা করতেন। তার সুরে যদি বলি আমরা যে সমাজে বাস করছি সেখানে মানুষের মনের মধ্যে রয়েছে কৃত্রিমতা, সংকীর্ণতা, দাম্ভিকতা, সাত্তপরতা, শূন্যগর্ভ এত বেশি দূরারোগ্য ব্যাধির মত ছড়িয়ে পড়েছে যে নৈতিক চেতনাসমপন্ন মানুষের পক্ষে সহ্য করা কঠিন।

থ্যাকারের সুরে বলতে গেলে এদের snob নামে অভিহিত করতে হয়! এই snob এর সংজ্ঞা হল,” He who meanly admires mean things is a snob “.নিকৃষ্ট বস্তুর প্রশংসা, তুচ্ছ বস্তুর বেশি প্রশংসা যারা করে তারা হল snob. আজ আমাদের আশেপাশে এসব snober ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যায়! তিনি বলেন, এইসব করে মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ব্যক্তিরা।

কারন বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবনের লক্ষ্য ও আদর্শ হল বড় মানুষি হবার লোভ,বড় মানুষের সাথে হাবভাব রয়েছে তা প্রকাশ করা, নিজের ঢোল পেঠানো, অপরের বদনাম করে নিজেকে মহৎ বানানোর চেষ্ঠা। অপরকে হেয় করে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। আর এসব করাই হল ” ছোটলোকের বড় মানুষি “দেখানো।। এই শ্রেণীর মানুষেরা চরম সাত্তপর,কুৎসিত,কদর্য। এদের হাসির অন্তরালে লুকিয়ে থাকে ঘৃন্য বড় মানুষি হবার নগ্ন শিখা।

তিনি বলেন, বুর্জোয়া সমাজের সবচেয়ে অমায়িক সুন্দর ঘৃন্য জীব হল এই মধ্যবিত্ত শ্রেণী যার চরিত্র হল, ” they are servile to those above, and tyranical to those beneath them.” উপরওয়ালাদের দাসত্ব করা এবং নিচু তলার প্রতি জুলুম বাজি করা।। এই জুলুমের ফলে অনেক পরিবারে কাজের লোকেরা নিগৃহিতের শিকার হয়। মৃত্যুর শিকার হয় রাজনেরা। পুলিশের জুতার বুটে পিষ্ট হয় রিক্সাচালক। পরিষদের চেয়ারম্যান সরকারি বরাদ্দের চাল মেরে খায়! এমন অহরহ উদাহরণ সকলের চোখের সামনে রয়েছে।।

এই শ্রেণীর ব্যতিক্রম মানুষেরা রয়ে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে। বুর্জোয়া মধ্যবিত্ত সমাজের চোখ চমকানো আধুনিকতার পূজারি তাই চরিত্রহীনতাকে বুর্জোয়া সমাজ বাহবা দেয়। ব্যভিচার করে যদি নিজেকে কেউ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে তার সাত খুন মাফ !

“If truth is not always pleasant; at any rate truth is best ” সত্য যদি অপ্রিয় বলে মনে হয় তবু সত্যই সঠিক।

সূত্র : ইংরেজী সাহিত্যর ইতিহাস

 

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ

পশ্চিমা বিশ্বে বাংলা সাহিত্য কেন অজানা... সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম রোববার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বাংলা ভাষা পৃথিবীর সমৃদ্ধতম ভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলা সাহিত্যও বিশ্বের সমৃদ্ধতম এবং ব...
গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষনীয় মজার কিছু তথ্য সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী তিন ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৮টি দরিদ্র দেশের মোট সম্পদের চেয়...
এক এগারোর স্মরণ অনুষ্ঠানে হঠাৎ অসুস্থ হিলারি ক্লিনটন... আন্তর্জাতিক,  সিটিজিবার্তা২৪ডটকম সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ নিউইয়র্কে ৯/১১ স্বরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের আসন...
যানজটের গোলক ধাঁধায় জিম্মি ঈদের আনন্দ... সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ জাতীয় ডেস্ক: একটানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের যানজট। ঈদকে সামনে ...
চট্টগ্রামে ‘মৃত্যুঘর’ ডালিম হোটেলের ইজারাদার মীর কাসেম... মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬   চট্টগ্রাম: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন বন্দর নগরী চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আ...