সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
১ আগস্ট, ২০১৬
চট্টগ্রাম : প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, ‘প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে এখন থেকে প্রত্যেক জেলায় বহির্গমন ছাড়পত্র ও স্মার্টকার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যারা ভূমিকা রাখছেন, তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
রবিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জনশক্তি, কর্মস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘চাকরির উদ্দেশে যারা বিদেশ যান, তাদের ঢাকায় গিয়ে বহির্গমন ছাড়পত্র ও স্মার্টকার্ড নিতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়। তাই প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে চট্টগ্রাম থেকেই সর্বপ্রথম এ কার্যক্রম শুরু হলো। এখন থেকে চট্টগ্রামের প্রবাসীরা সব ধরনের কার্যক্রম এখানেই সম্পন্ন করতে পারবেন।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর ২০ লাখেরও বেশি পুরুষ ও নারীকর্মী শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। ফলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দেশে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে সরকারিভাবে চাকরির সুযোগ কিংবা শিল্পকারখানায় এত সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় প্রতি বছর দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য গমন করছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১৬০টি দেশে এক কোটি বাংলাদেশি কর্মরত।
‘চট্টগ্রামে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০২১ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, আধুনিক জ্ঞানলব্ধ দেশে রূপান্তরিত করতে নানামুখি উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করার কাজ চলমান রয়েছে’|
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রবাসে কর্মরত মোট বাংলাদেশিদের মধ্যে কেবল মাত্র চট্টগ্রাম জেলায় প্রবাসীর পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ। গত ৭ জুন থেকে প্রবাসীর আত্মীয়-স্বজনকে বিদেশ গমনের সুবিধার্থে ‘জয়েনিং রিলেটিভ’ হিসেবে সেবাপ্রদান কার্যক্রম বিকেন্দ্রিকরণ করে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসও সিলেটে চালু করা হয়েছে।’
জনগণের অধিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগের কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম জেলায় একটি ইনস্টিটিউট অফ মেরিন টেকনোলজি সংস্থার কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংস্থাপনের লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে সারাদেশ ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে প্রকল্প কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া এখন থেকে বিদেশ ফেরত কর্মীদের দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান এবং তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের ইউনিয়নভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির র্কাযক্রমও চলছে।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছর আট লাখ ছাড়িয়ে যাবে। গত সাত মাসে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৯৩৫ জন বিদেশ গমন করেছেন। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রাশিয়ায় ৪’শ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। থাইল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
প্রবাসীর লাশ এবং বিদেশ ফেরত কর্মীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে একটি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করার কথাও জানান মন্ত্রী। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেগম শামছুন নাহার বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রবাসীদের সব ধরনের কার্যক্রম এখান থেকে করার দাবি দীর্ঘদিনের। ফলে এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ গেলে ভালো কাজ ও বেতন পাওয়া যায়। অদক্ষ শ্রমিক হয়ে বিদেশ না গিয়ে দক্ষ হয়ে গেলে চাকরি নিয়ে সমস্যা হয় না।’
গাড়িচালক (বাসার) হিসেবে যারা ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যাবেন, তাদের সব ধরনের খরচ চাকরিদাতা বহন করবে বলে উল্লেখ করে বেগম শামছুন নাহার আরো বলেন, ‘প্রশিক্ষণের খরচ সরকার বহন করবে। কেউ টাকা দাবি করলে বুঝবেন দালালের খপ্পরে পড়েছেন।’ প্রবাসীদের বীমার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে ছাড়পত্র ও স্মার্টকার্ড চট্টগ্রাম থেকে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এখানকার প্রবাসীদের আর ঢাকা যেতে হবে না। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চট্টগ্রামের অবদান সবচেয়ে বেশি। গত বছর এখান থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। কারণ মোট প্রবাসীদের মধ্যে ৫ লাখ ৪১ হাজার চট্টগ্রামের।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমীন, জনশক্তি, কর্মশক্তি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আহমদ শামীম আল রাজী, জনশক্তি, কর্মসংস্থান অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।



You must log in to post a comment.