সিটিজিবার্তা নিউজডেস্ক, চট্টগ্রাম: নগরীতে এক দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। সাজিদ আবদুল্লাহ নামের ওই ক্যাডার ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ের পর সহিংসতা চালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিল।
তিন বছর পর নিজের পরিচয় গোপন করে শিবির ক্যাডার সাজিদ জিইসি মোড়ের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে ঘেষার চেষ্টা করছিল।
তবে শিবির ক্যাডার সাজিদ কেন এ চেষ্টা করছিল সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ধারণা, বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে বা দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল হিসেবে সে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল। এ শিবির ক্যাডার এখন জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিবির ক্যাডার সাজিদ আবদুল্লা (অয়ন) ওরফে জিয়াউর রহমান জিয়া (অয়ন) ওরফে সাজিদ আবদুল্লাহ সাইফকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ধাওয়া দিয়ে নাসিরাবাদ স্কুলের সামনে গণপিটুনি দেয়। এরপর তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ওই ক্যাডার নিজেকে মানবাধিকার সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রিমিয়ারের জিইসি ক্যাম্পাসে অবাধে যাতায়াত করতে শুরু করেছিলেন। নামে-বেনামে ফেসবুক আইডি খুলে তাতে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তোলা সেলফি দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন শুক্রবার দুপুরে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান নামের একজনকে জামায়াত-শিবির-জঙ্গি ক্যাডার সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে স্থানীয় জনতা পুলিশে সোপর্দ করেছে। ওই তরুণের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একটি অস্ত্র মামলাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রায়কে ঘিরে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জিয়াউর রহমানের পায়ে তিনটি গুলি লেগেছিল। এরপর পালাতে না পারায় সে গ্রেফতার হয়েছিল। বিভিন্ন নামে পরিচয় দিলেও তার প্রকৃত নাম সাজিদ আবদুল্লাহ। মহসিন কলেজ শিবিরের সাবেক আট দায়িত্বশীলের অন্যতম। বর্তমানে নগর শিবিরের মহানগরী (উত্তর) শাখার সম্পাদক পদে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
সূত্র আরও জানায়, সাজিদ একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির সংগঠক। ফেসবুকে বিভিন্ন ইভেন্ট খুলে তিনি তরুণদের মগজ ধোলাইয়ের কাজটি ভালোভাবে চালিয়ে নিচ্ছিলেন। নামে-বেনামে স্পর্শকাতর বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতো। চট্টগ্রামে প্রগতিশীল সংগঠন বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বড় ধরনের গোপন মিশন নিয়ে সক্রিয় হয়েছিলেন তিনি।
যোগাযোগ করলে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে বোরহান সালেহীন বলেন, ‘বাবা প্রতিদিন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইসি ক্যাম্পাসে ইফতার করেন। সেখানে হাজারো মানুষের আনাগোনা। সবাইকে নিয়ে ইফতার করেন। আবার অফিসও করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে বেশ কিছু দিন ধরে একজন অপরিচিত তরুণ কখনো মানবাধিকার কর্মী, কখনো ছাত্র পরিচয়ে ক্যাম্পাসে এমনকি বাবার অফিসেও অবাধ যাতায়াত করছেন। মাত্রাতিরিক্ত সেলফি তুলছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছিলাম। এদিকে শুনলাম, গতকাল রাতে নাকি ওই তরুণকে জামায়াত-শিবিরের গুপ্তচর সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা আছে।’
বিস্মিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ বড় বাঁচা বাঁচিয়েছেন। কিছু দিন আগে প্রকাশ্য দিবালোকে জিইসির মোড়ে সাহসী পুলিশ অফিসার বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে খুন করেছিলেন দুর্বৃত্তরা। এরপর বাবার একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।’



You must log in to post a comment.