শনিবার, ২৯ আগষ্ট, ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ ডট কম
মো.তহিদুর রহমান রুবেল ঃ পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত পানছড়ি উপজেলার মোট ৮টি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি । উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে এর অবস্থান। সরকারের একীভূত শিক্ষার বিভিন্ন চাহিদা পূরণে অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে এগিয়ে থাকা,এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়ালেখা করছে প্রায় ১৩০০ জন। এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে র্যালী-মানব্বন্ধন কর্মসূচী।
বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের দাবীতে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশাল মানববন্ধনে অংশ নেয় বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ। শিক্ষার্থীরা এ সময় “প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হোক” ,“পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণ চাই”, “ বিধি বহির্ভূত সরকারিকরণ চলবে না” তিন বছরের ফলাফলে আমরা এগিয়ে” “অবকাঠামোয় উপজেলায় সেরা” ইত্যাদি লিখা পেস্টুন বহন করে।
১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে ভাল ফল অর্জন করে আসছে। কিন্তু তা সত্বেও বিদ্যালয়টি জাতীয়করনের জন্য করা প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় নি। জাতীয়করণ করা নিয়ে এ বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে বিরাজ করছে অবিশ্বাস,সন্দেহের ধুম্রজাল। সরকারের সব ধরণের নীতিমালার আওতায় থাকা সত্বেও স্বনামধন্য এই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রাথমিক তালিকায় আওতাভুক্ত হতে না পারায় হতাশ বিদ্যালয়টির ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ। ক্রমেই তা ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণের এক পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য রোজী আক্তার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো: মনিরুজ্জামান ও দশম শ্রেণীর ছাত্র হেলাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে। এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পানছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিলো দুরে অবস্থিত একটি বিদ্যালয়কে জাতীয় করণের ব্যাপারে শুক্রবার রাতের অন্ধকারে একটি টিম এসে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে রাতেই পানছড়ি ত্যাগ করে। কতিপয় ষড়যন্ত্রকারীদের কারণেই বারবার পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়টি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়।
এ বিষয়ে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্ঞান প্রভাত তালুকদার জানান, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সুশীল সমাজ নিয়ে র্যালী ও র্যালী পরবর্তী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের নীতিমালা অনুসারে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়টি সবক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। তিনি বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো: বাহার মিয়া বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা যে দাবী নিয়ে মানববন্ধন করেছে তা আসলে তাদের নায্য পাওনা। তারা সঠিক কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: বেলাল হোসেন বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা যা করেছে তা যুক্তিযুক্ত। নীতিমালার অনুসরণ করলে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় আসে শতভাগ। তাদের প্রাপ্য আদায়ের জন্য এ মানববন্ধন যুক্তিযুক্ত বলে জানান।
বিদ্যালয় পিটিএ সদস্য ও সমাজ সেবক মো: মতিউর রহমান জানান, এ বিদ্যালয়ে সকল সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলে সকল সম্প্রদায়ের,সব ধর্মের এবং সব ধরনের শিক্ষার্থী শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবে। অন্যান্য বিদ্যালয়সমূহে নানান কারনে যা সম্ভব নাও হতে পারে। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে অন্যান্য বিদ্যালয়গুলো থেকে এটি সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।
পানছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহজাহান মিয়া জানান, এটা যেহেতু সরকারী নীতি নির্ধারণী মহলের সিদ্ধান্ত সেখানে আমার কিছুই বলার নাই। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম শাহজাহান জানান, সরকার উপজেলার মানসম্মত ১টি কলেজ ও ১টি বিদ্যালয়ের সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। সে অনুযায়ী পানছড়ি ডিগ্রি কলেজ ও পানছড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের তথ্যাদি পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যালয় জাতীয়করণের ব্যাপারে তাঁরা মানববন্ধনসহ যে কোন গণতান্ত্রিক কর্মসূচী পালন করতে পারেন ।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper