মুহাম্মদ আতিকুর রহমান | ২০ জুলাই ২০১৬
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। জনপ্রিয় লেখকের নিজহাতে গড়া পিরুজালী গ্রামের নুহাশপল্লীতে কবর জিয়ারত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং এতিমদের ভূরি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯ জুলাই মঙ্গলবার সকালে কবর জিয়ারতে আসেন হুমায়ূন আহমেদের দুই ভাই লেখক জাফর ইকবাল ও কার্ট্যুনিষ্ট আহসান হাবিবসহ পরিবারের লোকজন। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
লেখালেখি নিয়ে পারিবারিকভাবে একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে আহসান হাবিব সাংবাদিকদের জানান, হুমায়ূনের প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত সব স্মৃতি এখানে সংরক্ষণ করা হবে।
এ সময় জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হুমায়ূনের শূন্যতা আমরা সব সময় অনুভব করি। তবে হুমায়ূন তার লেখা উপন্যাস, নাটক ও কর্মের মাধ্যমে এদেশের মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন।’
সকাল ১০টার দিকে দুই শিশুপুত্র নিষাদ ও নিনিদকে নিয়ে কবর জিয়ারতে আসেন লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। তিনি কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং প্রয়াত লেখকের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন।
মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি, দেশের ওপর যে ধরনের আঘাত এসছে, আমার মনে হয় হুমায়ূন আহমেদ এজন্য কষ্ট পাচ্ছেন। আমরা দেখেছি দেশের ওপর আঘাত আসলে বরাবরই লেখনীর মাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তিনি চাইতেন দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি।’
এছাড়া মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সিঙ্গাপুর থেকে আনা মেটালের তৈরি ‘উপুড় হয়ে শুয়ে বই পাঠরত এক নারীর মূর্তি’ নুহাশ পল্লীতে স্থাপন করবেন বলে কথা রয়েছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৮ জুলাই সোমবার রাতেই শাওন দুই ছেলে নিশাদ ও নিনিদসহ নুহাশপল্লীতে এসে অবস্থান করেন।
দুপুরে কোরআনখানি ও এতিমদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সিটিজি বার্তা২৪ কে জানান নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল।
তিনি বলেন, আশপাশের মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে তিন শতাধিক এতিমকে সাথে নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। পরে তাদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রিয় লেখককে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন শত শত ভক্ত আর অনুরাগী। অনেকে হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে হিমু সেজে এসেছেন কবর জিয়ারতে। নারী, পুরুষ ও শিশুদের ফুলেল ভালোবাসা ও বিচরণে সিক্ত লেখকের প্রিয় নুহাশপল্লীর প্রাঙ্গন।
প্রসঙ্গত, হুমায়ূন আহমেদ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২৪ জুলাই তার লাশ নিজের গড়া নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় দাফন করা হয়। জনপ্রিয় এই লেখক ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরক। এরপর প্রায় তিনশত উপন্যাস লিখেছেন তিনি। এছাড়া সিনেমা, নাটক ও টেলিফিল্ম রচনা করে বিখ্যাত ছিলেন তিনি। ব্যক্তি জীবনের তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক।



You must log in to post a comment.