রাশেদুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
সোমবার, ১১ জুলাই ২০১৬
শোলাকিয়া ঈদগাহের পাশে ও গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার সঙ্গে নিখোঁজ থাকা তরুণদের সম্পৃক্ততা পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও নিখোঁজ তরুণদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিখোঁজ তরুণদের তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই বাছাই করে তালিকা তৈরির কাজও শুরু করেছে পুলিশ কতৃপক্ষ।
এছাড়া, নিখোঁজ থাকা তরুণদের মধ্যে কতজন জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে জেলা ও নগর পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদর দফতরের বিশেষ নির্দেশনায় দেশের অন্যান্য ইউনিটের মতো সিএমপি ও জেলা পুলিশ গত দুই বছর আগ থেকে আজ পর্যন্ত যত তরুণ-যুবক নিখোঁজ হয়েছে উল্লেখ করে থানায় জিডি হয়েছে তার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। তালিকা সংগ্রহের পর নিখোঁজ সব তরুণই জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে কিনা সেটি জানতে কাজ করবে দু’টি বিশেষ কমিটি।
চট্টগ্রামের ৩২টি থানাতেই সিএমপি কমিশনার ও পুলিশ সুপারের দেওয়া নিখোঁজ তরুণদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নির্দেশ পৌঁছেছে। এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির একটির দায়িত্বে রয়েছেন সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গোয়েন্দা) নাজমুল হাসান ও অন্যটির নেতৃত্বে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) রেজাউল মাসুদ।
সিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য সিটিজিবার্তা২৪ডটকম কে বলেন, চট্টগ্রামে নিখোঁজ থাকা তরুণদের ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। গত বছর থেকে ১৬ থানায় যেসব তরুণ নিখোঁজ রয়েছে উল্লেখ করে জিডি করা হয়েছে সে বিষয়ে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরে বিশ্লেষণ করে এই সংক্রান্ত কমিটি কতজন নিখোঁজ তরুণ জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত সেটি খতিয়ে দেখবে। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশ সহযোগিতা করবেন।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার সিটিজিবার্তা২৪ডটকম কে বলেন, নিখোঁজ তরুণদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের জন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কমিটি কাজ করছে। নিখোঁজ থাকা তরুণদের কজন জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছে সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। কাজ চলছে, কয়েক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সব তথ্য আমাদের হাতে আসবে।
সিএমপির আওতাধীন কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, জঙ্গি সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি আমরা নিখোঁজ থাকা তরুণদের বিষয়ে বিগত দুই বছরে থানায় দায়ের হওয়া জিডিরও একটি তালিকা তৈরি করছি।



You must log in to post a comment.