ব্যুরো চীফ । ১৪ জুলাই ২০১৬
বরিশালে ছাত্রলীগ কর্মী রেজাউল করিম হত্যা মামলার এক আসামিকে অব্যাহতি দিতে বাদীর স্বাক্ষর জাল করে আবেদন করেছে আসামিপক্ষ, এমন অভিযোগ উঠেছে।
২৭ মে নগরীর পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের সামনে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ কর্মী রেজাউল করিম রেজাকে।
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ভাই রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের সভাপতি জসিমউদ্দিনসহ ১৪ জন নামধারীকে আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা থেকে ছাত্রলীগের মহানগর সভাপতি জসিমউদ্দিনকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বাদী রিয়াজউদ্দিনের স্বাক্ষর জলে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ওই মামলা থেকে ছাত্রলীগের মহানগর সভাপতি জসিমউদ্দিনকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বাদী রিয়াজউদ্দিনের স্বাক্ষরসহ একটি আবেদন পত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে, যার অনুলিপি পুলিশের আইজি, বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকেও দেওয়া হয়েছে।
তবে ছাত্রলীগ কর্মী রেজা হত্যা মামলার আসামি মহানগরের সভাপতি মো. জসিমউদ্দিনকে অব্যাহতি দেওয়ার এ আবেদন নিয়ে উঠেছে জালিয়াতির অভিযোগ। মামলার বাদী রেজার ভাই রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, তার স্বাক্ষর জাল করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার পরের দিন ২৮ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে প্রথমে ১০ জন নামধারীকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে রাজনৈতিক প্রভাবে ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ছাত্রলীগের মহানগর সভাপতি জসিম উদ্দিনকে ১২ নং আসামি করা হয়েছে। সভাপতির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভুল তথ্য দেওয়ায় তাকে আসামিভুক্ত করা হয়েছে। বিস্তারিত ঘটনা নিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে বাদী অনুতপ্ত হয়েছেন।
তাই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার আসামি থেকে জসিমকে অব্যাহতি দিতে বাদীর আপত্তি নেই, বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আবেদনকারী হিসেবে বাদী রিয়াজ উদ্দিনের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
এদিকে ওই স্বাক্ষর তার নয় জানিয়ে মামলার বাদী রিয়াজ উদ্দিন বলেছেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। মামলা থেকে কোন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়নি। স্বাক্ষর জাল করে এ আবেদন দেওয়া হয়েছে। স্বাক্ষর জাল করে আবেদন করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে ফেরারী হযে আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগের মহানগর সভাপতি জসিমউদ্দিন দাবি করেন, তাকে মামলার আসামি তালিকা হতে বাদ দেওয়ার আবেদনটি বাদী নিজেই করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এটা মামলার তদন্তে প্রভাব ফেলবে না। হত্যায় প্রকৃত জড়িতদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত মামলার এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলো জাহিদ, মেহেদি হাসান ও রাকিব। এদের মধ্যে হত্যায় নিজে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালত ও পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামী জাহিদ।



You must log in to post a comment.