আন্তর্জাতিক ডেস্ক । ১৪ জুলাই ২০১৬
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া টেরেসা মে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। প্রথম হতে না পারলেও তিনি দ্বিতীয় হলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়।
ভীষণ ফ্যাশনসচেতন ৫৯ বছর বয়সী টেরেসা তরুণ বয়স থেকেই স্বপ্ন দেখতেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার। মার্গারেট থ্যাচার দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাওয়ায় সে স্বপ্ন তাঁর পূরণ হয়নি। তখন তিনি খানিকটা বিরক্ত হয়েছিলেন বলেই বন্ধুদের ভাষ্য।
স্বপ্ন দেখে টেরেসা যে বসে ছিলেন না, তার প্রমাণ মেলে স্থানীয় কাউন্সিলর থেকে নানা ধাপ পার হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ায়। দক্ষিণ লন্ডনের মার্টনের স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে যে স্বপ্নযাত্রা শুরু করেছিলেন, ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাসিন্দা হয়ে তা পূরণ করলেন।
টেরেসার জন্ম ১৯৫৬ সালের ১ অক্টোবর, সাসেক্সে। বেড়ে ওঠা অক্সফোর্ডশায়ারে। সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষাজীবনের শুরু। এরপর কনভেন্ট স্কুল হয়ে তিনি উইটলি গ্রামের গ্রামার স্কুলে ভর্তি হন। পরে সেই স্কুলটির নাম হয় উইটলি পার্ক কম্প্রিহেনসিভ স্কুল। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা টেরেসা পকেট খরচা জোগাড় করতেন শনিবারে বেকারিতে কাজ করে। যাজক বাবার সন্তান তিনি। দুর্ঘটনায় যখন বাবার মৃত্যু হয়, তখন টেরেসা ২৫ বছরের তরুণী।
স্নাতক পড়াশোনার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন টেরেসা ব্রাসিয়ের। প্রেমে পড়েন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফিলিপ মের। বলা হয় যে সম্ভবত রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কারণেই ১৯৭৬ সালে ফিলিপ মের প্রতি আকৃষ্ট হন টেরেসা। ফিলিপ মে তখন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। এই সংগঠনকে বলা হয় ভবিষ্যৎ রাজনীতিকের উত্থানের আঁতুড়ঘর। ফিলিপ-টেরেসার আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন অক্সফোর্ডেরই ছাত্রী সাবেক পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। ১৯৮০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। সেই থেকে একসঙ্গেই আছেন। এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই।
মোৎজার্ট ও এলগারের সংগীতের প্রতি টেরেসার আছে বিশেষ ভালো লাগা। রান্না করতেও বেশ পছন্দ করেন তিনি। তাঁর সংগ্রহে আছে শতাধিক রেসিপির বই। এ ছাড়া শখের বশে পাহাড়ে চড়তেও পছন্দ করেন তিনি।
ভূতত্ত্বে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর টেরেসা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে কাজ শুরু করেন। পরে অ্যাসোসিয়েশন ফর পেমেন্ট ক্লিয়ারিং সার্ভিসের ইউরোপ-বিষয়ক ইউনিটের প্রধান হন। তবে রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি বলেই দক্ষিণ লন্ডনের মার্টনের স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য তাঁকে কমপক্ষে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। তবে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না-থাকা নিয়ে গণভোটের বাজি ধরেন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ব্রিটিশরা ইইউতে না থাকার পক্ষে ভোট দেন। বাজিতে হেরে পদত্যাগ করেন ক্যামেরন। এতে অপেক্ষার পালাটা আর দীর্ঘ হয়নি টেরেসার জন্য।
২০১১ সালে বিবিসি রেডিও ৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টেরেসার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বন্ধু পেট ফ্রাঙ্কল্যান্ড বলেন, ‘টেরেসার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছিল না, এমন কোনো সময়ের কথা আমি মনে করতে পারি না। সব সময় দেখতাম, টেরেসার মনে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বাসনা। মার্গারেট থ্যাচার যখন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন, তখন সে যথেষ্ট বিরক্ত হয়।’ পেটসহ আরও কয়েকজন বন্ধু বললেন, ছাত্রজীবনে বেশ হাসিখুশি ছিলেন টেরেসা। ভীষণ সামাজিক জীবন যাপন করতেন।
ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন টেরেসা। তবে ২০১৩ সালে তিনি জানান, তাঁর টাইপ-১ ডায়াবেটিস আছে এবং বাকি জীবন তাঁকে দিনে দুবার ইনসুলিন নিতে হবে। কনজারভেটিভ পার্টির এই নেত্রী উদার মানসিকতা পোষণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এমন একটি সরকার গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যে সরকার সব মানুষের জন্য কাজ করবে, শুধু সুবিধাভোগী কিছু মানুষের জন্য নয়।



You must log in to post a comment.