মামলার এজহারে ধর্ষণের কথা উল্লেখ নেই, একটি স্বার্থন্বেষী মহল গণধর্ষণ বলে প্রচার করছে!
এমরুল আজিজ । ১৯ জুলাই ২০১৬
গোলাপগঞ্জ(সিলেট)প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে আদিপত্য নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মামলার বাদী-বিবাদী করার বিষয়টি সুশীল সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে।মামলার এজহারে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী রুহেনা বেগম (১৬) কে ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে কোন অভিযোগ উত্থাপন করা না হলেও একটি স্বার্থন্বেষী মহল পুরো এলাকায় তাদের প্রভাব বিস্তার করতে গণধর্ষণ হয়েছে মর্মে একের পর এক অপপ্রচার করেই যাচ্ছে। এমনকি গণধর্ষণকারীদের ফাঁশির দাবী করে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
মামলার এজহারে ধর্ষণের কথা উল্লেখ না হলেও বিষয়টিকে গণধর্ষণ বলে একটি মহল অপপ্রচারের মাধ্যমে মিডিয়া স্থান পেতে উঠে-পড়ে লেগেছে।
হাকালুকি হাওর পারে সরকারী ও মালিকানাধীন পরিত্যক্ত পলিমাটির ভরাট ভূমিতে প্রায় ৬/৭ দশক পূর্বে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু লোক বসবাস শুরু করলে, তাদের আশ্রয়ে-পশ্রয়ে এক সময়ে তিনটি গ্রাম জন্ম নেয়।
ইসলামপুর, নুরজাহানপুর ও কালীকৃষ্ণপুর গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের পূর্ব পুরুষ সকলই ছিলেন বহিরাগত। এখন সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় ফেঞ্চুগঞ্জ-বড়লেখা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম গুলো অনেকটা আলোকিত হয়েছে।
বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অবহেলিত যোগাযোগ বঞ্চিত ঐসব জনপদের জীবনমানের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আজ গোলাপগঞ্জের সেই অজপাড়া গ্রাম গুলোর অনেকেই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ণরত আছে।
নুরজাহানপুর, ইসলামপুর ও কালীকৃষ্ণপুর গ্রামের লোকজনের ভাষা এখনও অনেকটা অসিলেটী। তাদের লোকজন নিজেদের মধ্যেই বিয়ে-সাদি করে, এছাড়াও অনেকেই সেই পূর্ব পুরুষের এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে ব্রাক্ষণবাড়িয়া আত্মীয়তা করে আসছেন। যখনই শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের অন্যান্য এলাকায় নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হন, তখন ইসলামপুর, নুরজাহানপুর ও কালীকৃষ্ণপুর ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের মধ্যেই চেয়ারম্যান রাখতে পারেন।
এমনই এক সুযোগে তাদের একজন ইসকন্দর আলী অতীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন ইসকন্দর আলীর কথায় ঐ তিনটি গ্রামের মানুষ উঠবস করত। দীর্ঘদিন একক ভাবে আদিপত্য বিস্তার করে ইচ্ছামত ঐ তিন গ্রামে শক্ত ভাবে প্রভাব খাঁটিয়েছিলেন ইসকন্দর আলী। তার অবিচারে অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে অনেক প্রতিবাদী লোক মাসের পর মাস জেল খাটতে হয়েছে। যে কোন ধরনের মামলার জন্য ঐ তিন গ্রামে সহজেই বাদী সংগ্রহ করা অনেক সহজ বলে এমন কথা রয়েছে উপজেলা জুড়ে।
এমন এক সময় ছিল ইসকন্দর আলীর কথাই ছিল ঐ তিন গ্রামের আইন। এক সময়ে নির্যাতিত লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিকল্প নেতা সৃষ্টি করলে ইসকন্দর আলী ও তার পক্ষের লোকজন মারমুখী হয়ে উঠে। এমনই এক সময়ে অতীতে অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে ধরা পড়েন ইসকন্দর আলী। এরপর থেকে তার প্রভাব অনেকটা কমতে থাকে।
কিছুদিন পূর্বে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ইসকন্দর আলী মৃত্যুবরণ করলে, তার বাহিনীর নেতৃত্বে আসেন পুত্র দুলাল আহমদ। পিতার ন্যায় তিনিও এলাকায় প্রধান্য বিস্তারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। দুলাল আহমদ বিগত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলে তার পথের কাঁটা হয়ে দাড়াঁন একই এলাকার তারই জাতভাই সাবেক ইউপি সদস্য কবির উদ্দিন। কবির উদ্দিন এর আগের ইউপি নির্বাচনে ইসকন্দর আলীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধীতা করেছিলেন। একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী হওয়ায় বিজয় তাদের এলাকায় যায়নি। এরপর থেকে বিরোধ আরও বড় করে রূপ নেয়। একে অপরকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন পথ খোঁজতে থাকেন।
ইসকন্দর আলী নাতনি ও দুলাল আহমদের ভাগিনী স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী রুহেনা বেগমকে গত ১০ জুলাই ধর্ষনের উদ্দেশ্যে কবির উদ্দিন ভাতিজা সুজন মিয়াসহ দু’জন যুবক তাদের ঘরে প্রবেশ কর ইঞ্জেকশন দিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ দিলে তা গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় রেকর্ডভূক্ত হয়।
মামলার বাদি রুহেনা বেগম তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে থানায় দায়ের করা মামলায় এমন কথা উল্লেখ না করলেও একটি স্বার্থন্বেষী মহল বিষয়টিকে গণধর্ষণ হিসাবে প্রচার করছে। এমনকি হাকালুকি পারের একমাত্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হাকালুকি বাজারে গত ১৭ জুলাই বিকেলে কতিপয় লোক মানববন্ধন করে তাদের বক্তব্যে বিষয়টিকে গণধর্ষণ হিসাবে উল্লেখ করে ফাঁশি দাবী করা হয়।
মামলার বাদী এজহারে ধর্ষিত হয়েছেন মর্মে কোন কথা উল্লেখ না করলেও একটি কূ-চক্রি মহল বিষয়টিকে গণধর্ষণ হিসাবে অপপ্রচার করে শুধু এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে না, গোলাপগঞ্জের সুনামকে নষ্ট করছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
সেই দাঙ্গা-হাঙ্গামা কবলিত অসিলেটীদের জনপদ ইসলামপুরের স্থানীয় বিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত নোংরা ভাষায় অনেকেই ফেসবুকসহ অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ করে গোলাপগঞ্জের ঐতিহ্যকে ভুলুন্টিত করায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমএ মুমিম হীরা, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ মুছাব্বির, সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার রেহান উদ্দিনসহ সচেতন জনগণ।
মামলার বাদী যখন তার এজহারে ধর্ষণের চেষ্টা করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তখন বিষয়টিকে গণধর্ষণ হিসাবে প্রচার করার কি উদ্দেশ্য এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সর্বমহলে। মামলার প্রধান আসামীর পিতা এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের বরাবরে ঘটনার সুষ্টু তদন্তের জন্য আবেদন করলে একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার দ্বারা ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে প্রাপ্ত সংবাদে জানাযায়।



You must log in to post a comment.