খুলনা ব্যুরো । ১৫ জুলাই ২০১৬
বাগেরহাটের মংলা উপজেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে সুন্দরবনের বনদস্যু ইলিয়াস ও মজনু বাহিনীর সদস্যরা তাদের দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।
আজ শুক্রবার (১৫ জুলাই) বেলা একটার দিকে বন্দরের বিএফডিসি জেটিতে দুই বনদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ১১ দস্যু আত্মসমর্পণ করেন। তাঁরা ১৭টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৬৫টি গুলিও জমা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সুন্দরবনের ইলিয়াস ও মজনু বাহিনীর মতো অন্য বনদস্যুরাও আত্মসমর্পণ করে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সরকার সহায়তা করবে। সুন্দরবনসহ সারা বাংলাদেশকে আমরা জঙ্গি, সন্ত্রাস ও দস্যুমুক্ত রাখতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, খুলনা রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, র্যাব-৮–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলমসহ র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
র্যাব-৮–এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির জানান, ইলিয়াস ও মজনু বাহিনীর যেসব সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন, তাঁরা হলেন ইলিয়াস বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস গাজী (২৭), মজনু বাহিনীর প্রধান মজনু গাজী (৪৩), নাছির উদ্দিন (৩৩), রবিউল ইসলাম (২৮), ইসমাইল গাজী (৫০), এনামুল সরদার (২৭), ইদ্রিস আলী (২৮), আবুল কালাম আজাদ (২০), মঞ্জু শেখ (৪৩), জাহাঙ্গীর মোড়ল (২২) ও বাবুল হাসান (২৪)। তাঁদের বাড়ি খুলনার দাকোপ ও কয়রা উপজেলা এবং সাতক্ষীরার তালা ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
মেজর আদনান কবির আরও জানান, ২০১৩ সাল থেকে ইলিয়াস ও মজনু বাহিনী পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মুন্সিগঞ্জ–সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জেলেদের অপহরণ ও দস্যুতা করছিল। দাকোপ ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় তাদের নামে ও বেনামে একাধিক মামলা রয়েছে।
গত ৩১ মে মংলায় একই জায়গায় প্রায় ৫২টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও পাঁচ হাজার গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সুন্দরবনে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান মাস্টারসহ ১০ জন।



You must log in to post a comment.