প্রজেক্ট স্মাইলের উদ্দ্যেক্তা সিটিজিবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম এর নির্বাহী সম্পাদক জেনিফার আলম
আহমেদ ইমতিয়াজ: রাজু নামের একজন রিকশাচালক ভাই এবার ঈদে তার পরিবারের জন্য নতুন জামা দূরের কথা, পরিবারের সাথে পাবনা ঈদ করতে যাবার মত অর্থ যোগাড় করতে না পেরে যখন রিকশা চালিয়েই ঈদের দিনটুকু পার করছেন ভাড়া জোগাড় করতে, তখন প্রজেক্ট স্মাইল নামে বন্ধুরা মিলে শুরু করা ছোট্ট একটা উদ্যোগ তার এই ঈদকে সত্যিকারের ঈদে পরিনত করে।
গ্রামের বাড়ি পাবনা যাওয়ার জন্য খরচের টাকা, নিজের জন্য শার্ট, মেয়েদের জন্য জামা ও স্ত্রী এবং মা এর জন্য শাড়ির ব্যাবস্থা করে তাকে চমকে দেয়া হয়।
রাজীয়া একজন এস এস সি পরিক্ষার্থী, বাবা মারা যাবার পর নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের এই মেয়েটি হঠাৎ করেই তীব্র দারিদ্র্যের মুখোমুখি এবং স্কুলের কয়েক মাসের বেতন দেয়া হয়নি। ৮ ভাই বোন এর মধ্যে ৩য় এই মেয়েটির পড়াশুনা যখন বন্ধের পথে তখন প্রজেক্ট স্মাইল এর বন্ধুরা মিলে তার সকল স্কুল খরচ এবং তাকে ঈদের পোশাক দিয়ে কিছুক্ষণ এর জন্য হলেও তার জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনে।
ছিন্নমূল শিশুদের কে মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং মোরাল সাপোর্ট দেবার জন্য একটি স্কুল শুরু করেছে এই প্রজেক্ট স্মাইল এর বন্ধুরা।
তাদের কথা হচ্ছে, যদি এই বাচ্চাগুলোকে ব্যাসিক সাপোর্ট দেয়া যায় এবং সাথে কর্মসংস্থান এর ব্যাবস্থা করা যায় তাহলে আগামীতে অপরাধ এর পরিমান অর্ধেক এ নেমে আসবে।
ঈদ উপলক্ষে ১৭০ টি বাচ্চা কে ঈদের নতুন পোশাক এবং জুতা কিনে দেবার পাশাপাশি, বাচ্চাদের কে তাদের পছন্দের খাবার খাওয়ানোর ব্যাবস্থা ও করেছিল প্রজেক্ট স্মাইল। ১৭০ টি বাচ্চার মুখে হাসি ফুটাতে পেরে যার পরনায় খুশি এই প্রজেক্টের সদস্যরা। এই অকৃত্তিম হাসি ই ঈদের পরম পাওয়া।
প্রজেক্ট স্মাইল নিয়ে কথা বলছিলাম এই প্রজেক্টের মুখপাত্র সিটিজিবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম এর নির্বাহী সম্পাদক জেনিফার আলমের সাথে, তিনি বলেন – আসলে আমি বাচ্চাদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ভালবাসি এবং দেবার পরে দেখা যায় কিছু বাচ্চা বাদ পরে যাচ্ছে প্রতিবার। এই বাদ পরে যাবার ভাবনা থেকে আমি আমার বন্ধুদের অনুরোধ করি তারা জেন আমার সাথে অংশগ্রহন করে। কারন আমার একার পক্ষে এত গুলো মানুষকে দেয়া সম্ভব ছিল না। এবং আমি আমার বন্ধুদের কে বলে দেই তোমরা যে যতটা পারো বাচ্চাদের জন্য নতুন পোশাক কিনে ফেল। এবং এই চিন্তা থেকেই আমরা এটার নাম দেই প্রজেক্ট স্মাইল এবং সবাই মিলেই এবার আমরা এই কাজগুলো করেছি।
প্রজেক্ট স্মাইল এর সদস্যরা হচ্ছেন – মেহরুন মুনা, রাশেদ কামাল রনি, শুভ পাল, রবিন সিদ্দিকি , ছায়া অধরা , মিরাজুল ইসলাম রিঙ্কু, জে এইচ আর রবিন, অন্তরা অনুপ, মুসফিকা তিতলী, জান্নাতুল মনিকা, সিভলি হক রিতিকা, আমিনুল হক।
জেনিফার আলম বলেন, আমরা এই ১৪ জন প্রত্যকে যে যার সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য করতে যেয়েই এই প্রজেক্ট স্মাইল কে জন্ম দিয়েছি। আমাদের ইচ্ছা আছে আমরা আমাদের এই প্রজেক্ট স্মাইল এর মধ্যমে হাসি ফোটানোর এই কার্যক্রম জারি রাখবো।
জেনিফার আরো বলেন, এই পরিমান মানুষকে আমার একার পক্ষে কখনোই এতটা করা সম্ভব হতোনা, আর এটা সম্ভবহয়েছে আম
প্রজেক্ট স্মাইল এর জন্য আমাদের পক্ষ থেকে শুভ কামনা। তাদের কাজের পরিধি এবং হাসি ফোটানোর পরিধি ছড়িয়ে পরুক পুরো বাংলাদেশ জুড়ে।



You must log in to post a comment.