বুধবার,২০ জুলাই ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
ডেস্ক সংবাদ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসীরা এখন নিত্যনতুন প্রযুক্তির কৌশল নিয়ে বিশ্বব্যাপী হামলা চালাচ্ছে, তাই দেশের সব বাহিনীগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হয়ে প্রশিক্ষিত হতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স- এসএসএফ এর ৩০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে এ কথা বলেন তিনি। এসময়, জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সন্তানদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় নিষ্ঠা, আনুগত্য আর অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা দিয়ে কাজ করে আসছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এসএসএফ। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা এই বাহিনীটি পার করলো ৩০ বছরের গৌরবময় ইতিহাস।
এসএসএফ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজন ছিলো বিশেষ দরবারের। যেখানে এসএসএফ এর সদস্যসহ উপস্থিত ছিলেন, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানগণ। দরবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে সব বাহিনীকেই।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জঙ্গিবাদের ধরণ পাল্টেছে। তাই আইনশৃংখলাবাহিনীকেও প্রশিক্ষণে পরিবর্তন এনে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।
প্রতিটি বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু প্রযুক্তি ব্যবহার বেড়ে গেছে। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের দিক থেকেও। সেক্ষেত্রে আমাদেরকেও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ নিতে হবে, প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে। এটার জন্য যা যা প্রয়োজন অবশ্যই আমাদের সরকার তা করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশেও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ধরন পাল্টাচ্ছে। আমাদেরও এসব বিষয়ে আরো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি বাহিনীকে আরো সচেতন হয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি আর্ত-সামাজিক উন্নয়নের কাজে লাগছে, মানুষের কল্যাণেও কাজে লাগছে সেই সাথে সাথে ধ্বংসাত্মক কাজেও কিন্তু এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।’
জঙ্গিবাদ রুখে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তানরা যাতে বিপথগামী না হয় সেজন্য তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হবে।
ধর্মের নামে ধর্মান্ধতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মের মূল বাণীটা যেন সঠিকভাবে শিখতে পারে সে ব্যবস্থাটা নেওয়া উচিত। এটা প্রতিটি ধর্মের ক্ষেত্রেই হওয়া উচিত। প্রতিটি ধর্মেই শান্তির বাণী বলা আছে’।
‘ধর্মের নামে ধর্মান্ধতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটা শুধু আমাদের দেশে না’।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ খুন করে বেহেশতে চলে যাবে! বেহেশতে গিয়ে হুর-পরী পাবে! এটা কোনো যৌক্তিক কথা না। এটা ধর্মের কথা না, কোরআন শরিফের কথা না, আমাদের নবীর নির্দেশ না’।
‘ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। সেই ইসলাম ধর্মকে আজকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে দিচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের এবং লজ্জার’।
হুশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মকে কোনোমতেই অসম্মানিত হতে দিতে পারি না। যাদের কারণে এগুলো হচ্ছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো। এতে কোনো সন্দেহ নাই’।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘নিজের ছেলেমেয়েদের সাথে সময় কাটান। তাদের মনের কথাটা শোনার চেষ্টা করেন। তাদের সঙ্গ দেন।’
‘তাদের কী চাহিদা সেটা জানা, তাদেরকে আরও কাছে টেনে নেওয়া, তাদের ভালো-মন্দ, সমস্যা দেখা, উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা যেন বাবা-মায়ের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারে সে সুযোগটা তাদের দেওয়া।’
সন্তানেরা কীভাবে চলছে, কী করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে- সেদিকেও ‘বিশেষভাবে দৃষ্টি’ দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।
এরপর, তেজগাঁওয়ে এসএসএফ অফিসার্স মেসে সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রী।


You must log in to post a comment.