লাইফ স্টাইল, সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2016-07-03 04:37:15 AM BdST
মাইগ্রেন হলো একটি ভিন্ন ধরনের মাথাব্যথা। ওষুধ খেয়ে কমাতে চাইলেও কমে না। যতক্ষণ না ঘুম নিচ্ছেন কিছুক্ষণ ততক্ষণ মাথার এক পাশ থেকে চোখ, ঘাড় পর্যন্ত ক্রমশই নামতে থাকে ব্যথা। এই ধরনের ব্যথা হলে বুঝতে হবে আপনার মাইগ্রেন অ্যাটাক হয়েছে।
অস্বাভাবিক মাথাব্যথা ও বমি ভাব এ রোগের প্রধান লক্ষণ। মাথাব্যথা শুরুর আগে হাই তোলা, কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তিবোধ করা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মাথার যেকোনো অংশ থেকে ব্যথা শুরু হয় এবং পরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে।
এছাড়া ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন হলে দেখতে সমস্যা- যেমন চোখে উজ্জ্বল আলোর অনুভূতি, হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিসীমানা সরু হয়ে আসা অথবা যেকোনো এক পাশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে। ২০ মিনিট স্থায়ী এসব উপসর্গের পর বমি ভাব এবং মাথাব্যথা শুরু হয়, যা সাধারণত এক পাশে হয়।
মাইগ্রেনের ভয়াবহ মাথাব্যথার সঙ্গে যারা পরিচিত তারাই জানেন, এটি কতটা যন্ত্রণাদায়ক। মেয়েদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জেনে নিন, কী কী কারণে হতে পারে মাইগ্রেন অ্যাটাক।
#মাইগ্রেন অনেক পরিবারেরই জিনগত সমস্যা।
#কাজের চাপ, মানসিক চিন্তা থেকে অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণেও মাইগ্রেন অ্যাটাক খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।
#অতিরিক্ত এক্সারসাইজ করার কারণেও ক্লান্তিতে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে।
#পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া মাইগ্রেন অ্যাটাকের অন্যতম কারণ।
#খুব উজ্জ্বল আলো বা তীব্র রোদে বেশিক্ষণ থাকলেও মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে।
#অনেক সময় দীর্ঘ দিন ধরে চলা কোনো ট্রমার কারণেও মাইগ্রেন অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে।
#ঠান্ডা লাগা বা অন্য কিছু থেকে অ্যালার্জি, ইনফেকশন হলেও মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে।
#মেনস্ট্রুরেশনের সময় অনেক মহিলা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন।
#ওরাল কন্ট্রাসেপটিভের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় অনেক সময় মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে।
#অনেক সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাইগ্রেন অ্যাটাক হয়ে থাকে।
মাইগ্রেন হলে করণীয়
#যাদের এ রোগ আছে, তাদের অন্তত: দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুম আবশ্যক।
#অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ না করা।
#কড়া রোদ বা তীব্র ঠাণ্ডা পরিহার করতে হবে।
#উচ্চশব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ না থাকা।
#বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে না থাকা।
#যেসব খাবার খেলে মাইগ্রেন শুরু হতে পারে সেসব খাবার যেমন কফি, চকলেট, পনির, আইসক্রিম, মদ ইত্যাদি বর্জন করা উচিত।
#অধিক সময় উপবাস থাকা যাবে না।
#জন্মবিরতীকরণ পিল সেবন না করা শ্রেয়। প্রয়োজনে অন্য পদ্ধতি বেছে নেয়া ভালো।
#পরিশ্রম, মানষিক চাপ এবং দীর্ঘ ভ্রমণ বর্জনের মাধ্যমে মাইগ্রেনের আক্রমণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।



You must log in to post a comment.